ভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের আওতায় খুব কম বাংলাদেশি উপকৃত হবেন। ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে এখবর জানিয়েছে এনডিটিভি।
সম্প্রতি ভারতের লোকসভায় নাগরিকত্ব আইনের একটি সংশোধনী পাস হয়েছে। এই আইনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের অমুসলিম অভিবাসীদের দ্রুত নাগরিকত্ব প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। আইনটি প্রণীত হলে এই প্রতিবেশী দেশগুলোর হিন্দু, জৈন, শিখ, বৌদ্ধ ও পার্সিসরা ভারতে বসবাসের ছয় বছরের মধ্যে নাগরিকত্ব পাবেন। তাদের কোনও কাগজপত্র না থাকলেও চলবে। বর্তমান আইনে নাগরিকত্ব পেতে ১২ বছর অপেক্ষা করতে হয়।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা (এলটিভি) চালু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ২০০ জনেরও কম বাংলাদেশি ভারতে বসবাসের জন্য আবেদন করেছেন।
ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ২০১১ সাল থেকে ২০১৯ সালের ৮ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় মাত্র ১৮৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দীর্ঘ মেয়াদী ভিসা দিয়েছে। একই সময়ে এই ভিসা পেয়েছেন পাকিস্তানের ৩৪ হাজার ৮১৭ জন নাগরিক।
সংশোধিত আইনে যারা ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করবেন তাদেরকে অবশ্যই এলটিভির সবগুলো শর্ত পালন করতে হবে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, নতুন প্রস্তাবিত আইনে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য বাংলাদেশিদের আবেদন খুব বেশি হবে না। যদি হতো তাহলে এরই মধ্যে অনেকে এলটিভির জন্য আবেদন করে ফেলতেন।
ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, যে ১৮৭ জন বাংলাদেশি এলটিভির অনুমোদন পেয়েছেন তাদের মধ্যে ২০১৮ সালে দুই জন, ২০১৭ সালে ৩ জন, ২০১৬ সালে ৫০ জন, ২০১৫ সালে ২৬ জন, ২০১৪ সালে ৭৪ জন, ২০১২ সালে ২৭ জন এবং ২০১১ সালে চারজন। ২০১৩ সালে কোনও বাংলাদেশিকে এলটিভি দেওয়া হয়নি।
আইনটির সংশোধনীর বিরোধিতায় ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে প্রতিবাদ চলছে। আসামের ছয়টি জাতিগত গোষ্ঠীকে শিডিউলড ট্রাইব (তফশিলি উপজাতি) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে গত ১১ জানুয়ারি বন্ধ পালন করছে স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনগুলো।