বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে গিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চ্যালেঞ্জ ছোড়েন: নন্দীগ্রামে হারবেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার মোদির সেনাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বললেন একই কথা। তারও দাবি, নন্দীগ্রামে মমতা হেরে গেছেন। যদিও মমতা বলছেন, ৬০ কেন্দ্রের ৫০টিতেই জয় পাচ্ছেন তিনি।
বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসন থেকে মমতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিজেপিতে যোগ দেওয়া তারই সাবেক সহযোগী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আধঘণ্টা আগে স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে পাঁচটায় নির্বাচন কমিশনের দেওয়া হিসাব মতে নন্দীগ্রামে ৮০% ভোট পড়েছে। এই আসনে জয় পরাজয় দুই প্রার্থীর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয় দফা নির্বাচনের আগে শুক্রবার কোচবিহারের শীতলকুচিতে জনসভা করছেন অমিত। সেই সভা থেকেই মমতাকে আক্রমণ করে অমিত শাহ বলেন, “ভারতের একমাত্র ব্রহ্মা মন্দির এখানে আছে। চিলা রায় এখানে মোগলদের পা রাখতে দেয়নি। দিদি উত্তরবঙ্গের প্রতি সব সময় অন্যায় করেছেন। সেজন্য দিদি আপনাদের ভয় পান। কাল প্রমাণ হয়ে গেছে নন্দীগ্রামে দিদি হারছেন। ওঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আর কোথা থেকে লড়বেন। উনি বলেছেন, উত্তর বাংলা ছাড়া অন্য যেকোনও জায়গা থেকে। একবার বিজেপি ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গে সব হিংসা বন্ধ হয়ে যাবে।”
প্রসঙ্গত, ভোটের দিন নন্দীগ্রাম থেকে অমিতাভ ভট্টশালী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, সেখানে দুই প্রার্থীর মধ্যে খুবই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে এবং সকাল থেকে পুরো নির্বাচনি এলাকা ঘুরে তিনি দেখেছেন ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রগুলোতে লম্বা লাইন। গোটা এলাকার বিভিন্ন ভোটদান কেন্দ্রে প্রচুর ভোট পড়েছে এবং লাইনে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিজেপি মমতার পরাজয়ের কথা বললেও তৃণমূল সুপ্রিমো শুক্রবার (২ এপ্রিল) কোচবিহারের দিনহাটায় প্রচারণা চালাতে গিয়ে বলেছেন, ‘নন্দীগ্রামের মানুষকে অভিনন্দন। নন্দীগ্রামের ভোট দেখে বলতে পারি আপনারা জয়ের দিকে তাকিয়ে থাকুন। দু’দফায় ৬০টি কেন্দ্রে ভোট হয়েছে। এরমধ্যে ৫০টিতে আমিই জিতছি।’