ভারতে করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। সারা দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উত্তর প্রদেশেও হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এরইমধ্যে সেখানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে। রোগী বৃদ্ধি জেরে অক্সিজেনের অভাবও প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে। হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ানো রোগীর পরিবারের লোকদের পুলিশ অক্সিজেনের অভাব মেটাতে যে উপায় বাতলে দিয়েছে তা নিয়ে ছড়িয়েছে বিতর্ক।
কোভিড আক্রান্তের জন্য অক্সিজেনের খোঁজে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন পরিজনরা। প্রয়াগরাজ এলাকার বিজেপি বিধায়কের অক্সিজেন প্ল্যান্টেও ভিড় জমিয়েছিলেন অনেকে। সেখানে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশও। কোভিড আক্রান্ত বাবার জন্য অক্সিজেন আনতে গিয়ে সেখানে পুলিশের তাড়া খাওয়ার কথা জানিয়েছেন এক যুবক। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘অক্সিজেন প্ল্যান্টে কথা বলার মতো কেউ ছিল না। অক্সিজেনের কথা বলার জন্য আমি ভেতরে যেতেই পুলিশ তাড়া করেছে।’
প্রয়াগরাজের সব হাসপাতাল ঘুরেও তিনি তার বাবার জন্য অক্সিজেন জোগাড় করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।
একই অভিজ্ঞতা মায়ের জন্য অক্সিজেন আনতে যাওয়া যুবকের। বিজেপি বিধায়কের প্ল্যান্টে গিয়ে অক্সিজেনের খোঁজ করেছিলেন ওই যুবক। অভিযোগ, পুলিশ তখন তাকে বলেছে, ‘মাকে অশ্বত্থ গাছের নিচে বসিয়ে রাখ। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বেড়ে যাবে।’
এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোভিডের চিকিৎসা করতে গিয়ে ভারতের সাধারণ মানুষ কী রকম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন তা দিনে দিনে আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
এদিকে রবিবার ভারতে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসে দৈনিক সংক্রমণ চার লাখ ছাড়িয়েছে। একইসঙ্গে তৈরি হয়েছে সংক্রমণের নতুন রেকর্ড। ভারত তো বটেই, গোটা বিশ্বেও এই প্রথম কোনও একটি দেশে আক্রান্তের সংখ্যা একদিনে চার লাখ ছাড়িয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রোগীদের পরিষেবা দেওয়ার পরিসর ক্রমেই কমে আসছে। অনেক ক্ষেত্রেই একই শয্যায় একাধিক রোগীকে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। বিশেষ করে ভারতের রাজধানী দিল্লির পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। সেখানে এমনকি বিভিন্ন শ্মশানের বাইরে রাস্তায় টোকেন নিয়ে মরদেহের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। ২০ ঘণ্টা কেটে যাচ্ছে আগুন পেতে। লাশ ছিঁড়ছে কুকুর। শ্মশানের দরজায় দরজায় ঘুরে জায়গা না পেয়ে স্রেফ বরফ চাপা দিয়ে ৪৮ ঘণ্টাও বাড়িতে শব রেখে দিচ্ছে স্বজনেরা। কুকুরের মৃতদেহ পুঁতে ফেলার জায়গা ব্যবহার করা হচ্ছে মানুষকে দাহ করার জন্য।