তামিলনাড়ুর বিধানসভায় বিরোধী দল ডিএমকের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। ডিএমকের বিগত শাসন আমলের কথিত দুর্নীতিকে ‘দলীয় তহবিল’ বলে আখ্যায়িত করার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন দফতর থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৩ জুন) গভর্নরের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন আলোচনার জবাবে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় ডিএমকে সদস্যদের তুমুল প্রতিবাদের মুখে পড়ে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই সংঘাত আরও চরম রূপ নেয় যখন বিরোধী দলীয় নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন এই অভিযোগের তীব্র আপত্তি জানান এবং বিধানসভার ফ্লোরেই এর প্রমাণ দাবি করেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বক্তব্যের সময় স্পিকার কাউকে হস্তক্ষেপ করার অনুমতি না দেওয়ায়, প্রতিবাদের একপর্যায়ে ডিএমকে সদস্যরা বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন।
বিগত ডিএমকে সরকার বিভিন্ন সরকারি দফতর থেকে ‘দলীয় তহবিল সংগ্রহের’ নামে অর্থ আত্মসাৎ করেছে; বিজয়ের এমন মন্তব্যের পরই উদয়নিধি প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। তিনি স্পিকার জেসিডি প্রভাকরের কাছে দাবি জানান, মুখ্যমন্ত্রী যেন ডিএমকের বিরুদ্ধে এমন ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ না এনে হাউজে এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেশ করেন। স্পিকার অবশ্য বিজয়ের বক্তব্যের মাঝে কোনও ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগ নাকচ করে দেন এবং মুখ্যমন্ত্রীকে তার জবাবী বক্তব্য শেষ করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু এরপরও ডিএমকে সদস্যরা তাদের প্রতিবাদ জারি রাখেন।
প্রতিবাদের মধ্যেই বক্তব্য পুনরারম্ভ করে বিজয় বলেন, বিগত ডিএমকে সরকারের মতো টিভিকে কখনোই দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবে না এবং কাউকে সরকারি কোষাগার লুট করতে দেবে না। বারংবার বাধা পাওয়ার মধ্যেই তিনি বলেন, দলীয় তহবিল সংগ্রহের আড়ালে যে সরকারি অর্থ অপব্যবহার বা আত্মসাৎ করা হয়েছে, তার সরকার তা উদ্ধার করবে। একই সঙ্গে দুর্নীতির জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এমনকি সেটি যদি ডিএমকে আমলও হয়ে থাকে, তবুও ছাড় দেওয়া হবে না।
শাসক দল টিভিকে মূলত ডিএমকের করুণা বা দয়ার ওপর টিকে আছে’ বিরোধীদের এমন দাবিও উড়িয়ে দেন বিজয়। তিনি জানান, বাম দলগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে টিভিকে-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেস, ভিসিকে এবং আইইউএমএল যারা সমর্থন বাড়িয়েছিল, তাদের নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হয়েছে। বিজয় স্পষ্ট করে বলেন, আমরা ডিএমকের দয়ার ওপর নির্ভরশীল নই। যারা আমাদের নির্বাচিত করেছেন, সেই জনগণের দয়ায় আমরা সরকার চালাচ্ছি। এর পরপরই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই উদয়নিধির নেতৃত্বে ডিএমকে সদস্যরা বিধানসভা কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে