মেকেদাতু ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের জবাব, ‘জনগণের জন্য অপমানও মেনে নেবো’

কাবেরী নদীর পানি বণ্টন এবং কর্নাটকের মেকেদাতু বাঁধ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (৭ আগস্ট) উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা। এ সময় মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় ও বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্টালিনের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। 

কাবেরী পানি ইস্যু এবং কর্নাটকের মেকেদাতু বাঁধ নির্মাণ পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ করে উদয়নিধি স্টালিন অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী রাজ্যের এই প্রকল্প ঠেকাতে বিজয় সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি বলেন, মেকেদাতু বাঁধ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া থেকে কর্নাটককে থামাতে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা বিধানসভায় স্পষ্ট করতে হবে।

জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বলেন, মেকেদাতু বাঁধের বিরুদ্ধে বিধানসভায় ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে এবং তিনি এ প্রকল্পের বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠিও লিখেছেন। তিনি বলেন, তামিলনাড়ুর কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় যা যা করা দরকার, আমরা তাই করবো।

এরপর বিজয় পাল্টা ডিএমকের সমালোচনা করে বলেন, ১৯৬৯ সালে তাদের সরকারই প্রথম কর্নাটকের এই প্রকল্পে অনুমতি দিয়েছিল।

পরে উদয়নিধি স্টালিন মেকেদাতু ইস্যুতে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার প্রস্তাবে বিজয় সরকারের অনীহা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, কর্নাটকে নিজেদের অধিকার রক্ষায় সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে অবস্থান নিয়েছে। তার প্রশ্ন, তাহলে মেকেদাতু ইস্যুতে তামিল স্বার্থে ঐক্য দেখাতে টিভিকে সরকার কেন সর্বদলীয় বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছে?

এছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর বেঙ্গালুরু সফরের পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উদয়নিধি। তিনি বলেন, প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীর বেঙ্গালুরু সফরের পরিকল্পনার খবর প্রকাশ করা হয়েছিল, পরে সমালোচনার মুখে মুখ্যমন্ত্রী তা অস্বীকার করেন।

নিজের প্রস্তাবিত সফরের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিজয় বলেন, প্রতিবেশী রাজ্যের সঙ্গে আলোচনায় সমস্যা কোথায়। তিনি বলেন, যখন শত্রু দেশগুলোও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে, তখন আমি প্রতিবেশী রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছি। কেউ কেউ বলেছেন, এতে অপমানিত হতে পারি। হলেও তামিলনাড়ুর মানুষের জন্য সেই অপমান মেনে নিতে আমি প্রস্তুত।

প্রসঙ্গত মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বেঙ্গালুরু সফরের একটি প্রস্তাব ছিল বলে জানা যায়। তবে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার কাবেরী পানি বণ্টন ইস্যুতে চলমান উত্তেজনা ও বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে সেই সফর স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান। পরিবর্তে তিনি পরবর্তী সময়ে খরাপীড়িত কাবেরী অববাহিকা ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ জানান।