বন্দে মাতরম নিয়ে কংগ্রেসকে ‘মুসলিম লীগ’ বলে কটাক্ষ বিজেপির

সরকারি ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর পুরো সংস্করণ গাওয়ার সরকারি আহ্বানের মধ্যেও কেবল প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি (সিডব্লিউসি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা তাদের ১৯৩৭ সালের প্রস্তাব অনুযায়ী দলীয় কর্মসূচিতে শুধু প্রথম দুটি স্তবকই পরিবেশন করবে। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তের পর বিরোধী দলটিকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিজেপি। এর আগে জাতীয় গানকে অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করা বিজেপি দলটিকে ‘নতুন মুসলিম লীগ’ বলে মন্তব্য করেছে। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রতি কংগ্রেসের ‘দেশপ্রেম ও আনুগত্য’ নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

সুধাংশু ত্রিবেদী আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের স্বাধীনতা সংগ্রামের একমাত্র স্বত্বাধিকারী হওয়ার দাবিকে পুরোপুরি চুরমার করে দিয়েছে। কংগ্রেস প্রমাণ করেছে যে তারা দলকে সংবিধান, সংসদ এবং দেশের ঊর্ধ্বে মনে করে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বন্দে মাতরম নিয়ে কংগ্রেসের বর্তমান সিদ্ধান্ত সেই একই একগুঁয়েমিকে প্রতিফলিত করে, যা ১৯৩১ সালে পুরো সংস্করণ গাওয়ার বিরোধিতা করার সময় মুসলিম লীগ দেখিয়েছিল বলে জানান বিজেপির এই মুখপাত্র।

অন্যদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে জাতীয় গান ও জাতীয় সংগীত নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপাল। তিনি বলেন, এগুলো কংগ্রেসের জন্য আবেগের বিষয়।

কংগ্রেসের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বেনুগোপাল বলেন, বন্দে মাতরম নিয়ে দলের সিদ্ধান্ত ১৯৩৭ সালের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের সঙ্গেই সঙ্গতিপূর্ণ। সেই সময় মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু এবং সরদার প্যাটেল উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য সরকার গত ফেব্রুয়ারিতে যেকোনও জনসভা ও সরকারি অনুষ্ঠানে পুরো ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করে এবং সংসদে একটি বিল পাস করে জাতীয় গান ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনে বাধা দেওয়া বা ব্যাহত করাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।

সম্প্রতি স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেসের সদর দফতরে পুরো জাতীয় গান গাওয়ার সময় সাবেক কংগ্রেস প্রধান সোনিয়া গান্ধীর কিছু অঙ্গভঙ্গির ভিডিও ঘিরে বন্দে মাতরম বিতর্ক নতুন করে তুঙ্গে ওঠে। বিজেপির দাবি ছিল সোনিয়া গান্ধী পুরো সংস্করণ গাওয়ার বিরোধিতা করছিলেন, তবে কংগ্রেস সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

বিজেপির এসব দাবিকে মূল ইস্যু থেকে নজর ঘোরানোর কৌশল বলে অভিহিত করেছেন বেনুগোপাল। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চাঁদাবাজির মতো জাতীয় সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতে বিজেপি এসব করছে।

এদিকে গত সোমবার গোয়ার একটি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরমের ‘অসম্পূর্ণ’ সংস্করণ গাওয়ার জন্য সমালোচনার মুখে পড়েন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। বিজেপি এটিকে জাতীয় সংগীতের প্রতি অমান্য বা অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করে। এর জবাবে খাড়গে বলেন, তিনি সেই সংস্করণটিই গেয়েছেন যা আগে গান্ধী, নেহরু, প্যাটেল এবং অটল বিহারী বাজপেয়ী গেয়েছিলেন। যদি এই সংস্করণটি গাওয়া অপরাধ হয়ে থাকে, তবে এসব নেতাদের বিরুদ্ধেও মামলা করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।