মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) স্থগিত হওয়া চার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সচল করার অনুমতি খারিজ করে দিয়েছেন কলকাতার হাইকোর্ট। প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা জমা থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এসব অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেনের সাময়িক অনুমতি দিতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) অস্বীকৃতি জানান আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণ করে জানান, এই অনুমতি দেওয়া হলে রাজনৈতিক দলটির দৈনন্দিন খরচ মেটানোর বিষয়ে তার আগের নির্দেশটি ক্ষতিগ্রস্ত বা ক্ষুণ্ণ হবে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।
দুর্গাপূজার ছুটির পর মামলাটি পুনরায় শুনানির জন্য আসবে। তার আগেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে হলফনামা দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার অপরাধ থানা কর্তৃক ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো স্থগিতের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল গোষ্ঠী। দলটি দাবি করেছিল, এই অবরোধ সংক্রান্ত এফআইআরে নানা ত্রুটি রয়েছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকার আদালতে জানায়, ফৌজদারি কার্যবিধি ও আইন মেনেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশের তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করে।
শুনানি শেষে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, গত ৯ জুলাই অপর ৩টি স্থগিত অ্যাকাউন্ট থেকে রাজনৈতিক দলটির দৈনন্দিন খরচ মেটানোর লক্ষ্যে একজন বিশেষ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ফলে এই চার অ্যাকাউন্টের বিষয়ে এই মুহূর্তে নতুন করে কোনও নির্দেশের প্রয়োজন নেই। উক্ত ৯ জুলাইয়ের আদেশটি পরবর্তীতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও বহাল থাকে। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানার তদন্ত প্রতিবেদনও আদালতে পেশ করা হয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতে যুক্তি দেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এই চার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা রয়েছে। গত ৯ জুলাইয়ের আদেশের আওতায় প্রায় ২০০ কর্মচারীর বেতন এবং কয়েকটি দলীয় কার্যালয়ের ভাড়া মেটানো হচ্ছে। তবে একটি রাজনৈতিক দলের সমাবেশ আয়োজন এবং ব্যানার-পোস্টার টাঙানোসহ আরও অনেক খরচ থাকে। তিনি আরও বলেন, যে এফআইআরের ভিত্তিতে এই চার অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে, তাতে সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে; যার মাধ্যমে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
জবাবে আদালত মৌখিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অপর গোষ্ঠীর দাবি-পাল্টা দাবির প্রেক্ষিতে অ্যাকাউন্টগুলোর অর্থ কার পক্ষে যাবে, তা নির্বাচন কমিশনের আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
রাজ্য সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরিও (ইডি) তিনটি বেসরকারি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছিল। তিনি দাবি করেন, তোলাবাজি বা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার হওয়া বিধাননগর পৌরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর ও টিএমসি নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী এই স্থগিত অ্যাকাউন্টগুলোতে কয়েক কোটি টাকা জমা করেছিলেন। এছাড়া এসব অ্যাকাউন্ট থেকে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ নামক একটি সংস্থায় ৩০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল, যে সংস্থাটি স্কুল শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারির মামলায় চার্জশিটভুক্ত।