দিল্লিতে ধরপাকড়: কেজরিওয়াল-মমতাসহ চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আটক

ভোটার তালিকা কারচুপির অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) ডাকা বিক্ষোভের আগে দিল্লিতে তীব্র পুলিশি পদক্ষেপ ও অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই বিক্ষোভে যোগ দিতে আসার পর থেকে একে একে চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

দিল্লিতে চলমান এই ধরপাকড়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন- অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন এবং মানিক সরকার।

একটি বাসের ভেতর থেকে ভিডিও শেয়ার করে কেজরিওয়াল জানান, তিনি এবং আম আদমির অন্য নেতারা দিল্লি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। বাসে তার সঙ্গে থাকা বিক্ষোভকারীরা সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। যন্তর মন্তরে সিইসিবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিতে ‘দিল্লি চলো’ বার্তা দেওয়ার কয়েক মিনিট পরই কেজরিওয়ালকে আটক করা হয়।

এদিকে, দিল্লি বিমানবন্দরে প্লেন অবতরণের মাত্র কয়েক মিনিট পরেই সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং তার সহ-আহবায়কদের বিমান থেকেই আটক করা হয়। বর্তমানে আটক থাকা অবস্থায় থানায় অবস্থান ধর্মঘট (ধর্না) শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সিজেপি ও আইসার এই বিক্ষোভের অনুমতি না থাকায় এবং বড় ধরনের জমায়েতের আশঙ্কায় পুরো রাজধানীকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ)। এছাড়া অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে এমন ৬০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং সকাল থেকে পুলিশি অভিযানে প্রায় ২ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে প্রধান নেতারা আটক হওয়ার পর সিজেপির বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অজিঙ্কা শিন্ডে। পুলিশি বাধা ও সকাল থেকে ব্যাপক আটকের পরও তিনি বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কনাট প্লেস থেকে জমায়েত হওয়া প্রায় ১৫০ জন বিক্ষোভকারীকেও পুলিশ আটক করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকারের দমনপীড়নকে পাশ কাটিয়ে সফল হবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে