ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরের কামজং ও উখরুল জেলায় নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতায় শনিবার অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় কামজং জেলার চাসাদ এলাকায় ১০টি বাড়ি ও ২০টি দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
সম্প্রতি রাজ্যে নাগা ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে দফায় দফায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে এর প্রতিবাদে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কাংপোকপি জেলাজুড়ে ২৪ ঘণ্টার বন্ধের বা টোটাল শাটডাউনের ডাক দিয়েছে কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি (সিওটিইউ)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে কামজং জেলার চাসাদে সন্দেহভাজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর গুলিতে মাইকেল নগামমিনলেন হাংখিপ (২৩) নামে এক তরুণ নিহত হন। অন্যদিকে উখরুল জেলার ইয়াওলেন এলাকায় অতর্কিত হামলায় সন্দীপ রাই (৪০) নামে এক গাড়িচালককে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে চাসাদে গুলিতে প্রাণ হারান ডমখোনই তুথাং নামে ৫ সন্তানের জননী এক কুকি নারী।
এছাড়া শনিবার সকালে কামজং জেলার মণিপুর-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নিংচৌ গ্রামে সশস্ত্র হামলায় নাগা সম্প্রদায়ের দুই গ্রামবাসী নিহত হন। নিহতরা হলেন- ঙাচানসো নিংশেন (৩৫) ও লাইশিশান লাইশাদাং (৪৮)। এ নিয়ে দুই জেলার সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ জনে দাঁড়াল।
সহিংসতার জেরে চাসাদ পুলিশ গেট জংশনের ৪০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করে ৫ বা ততোধিক মানুষের জমায়েত ও অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করেছে কামজং জেলা প্রশাসন।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মণিপুরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, একদিনেই রাজ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি