ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালুর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ক্যাম্পাসে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সব ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনশনরত শিক্ষার্থীদের তাবু সরিয়ে নিতে নিরাপত্তারক্ষীরা অগ্রসর হলে ক্যাম্পাসে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।
দক্ষিণ দিল্লির এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর ও রেজিস্টার মাহতাব আলম রিজভী অভিযোগ করেছেন, গতদিন কংগ্রেসের দুই নেতা ক্যাম্পাসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের প্ররোচিত করেছেন এবং তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ক্যাম্পাসে ২০০৬ সালে সহিংসতার কারণে পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ায় ‘জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’ (জেএমআইএসইউ) বাতিল করা হয়। দীর্ঘ দুই দশক ধরে বন্ধ থাকা সেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন ফের চালুর দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।
গত ২১ অক্টোবর ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহল্লাদ জোশীকে লেখা এক চিঠিতে প্রায় দুই দশক ধরে নির্বাচিত ইউনিয়ন না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস। তিনি সংবিধানে উল্লিখিত বাকস্বাধীনতা ও সংগঠন করার অধিকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশিকা এবং ছাত্র নির্বাচনের বিষয়ে লিংডোহ কমিটির সুপারিশের কথা উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অভিযোগ, কংগ্রেস সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ী এবং ইমরান মাসউদ দেয়াল ডিঙিয়ে অবৈধভাবে ক্যাম্পাসে ঢুকে পরিবেশ বিনষ্ট করেছেন। এই অভিযোগের জবাবে ইমরান প্রতাপগড়ী বলেন, অনশনরত শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক তুলে দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভয় পেয়ে আন্দোলন দমন করতে চাইছে। তিনি এক বার্তায় জানান, স্বৈরাচারী প্রশাসনকে বুঝতে হবে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর প্রতিটি চেষ্টা ব্যর্থ হবে এবং প্রয়োজন হলে তিনি আবারও জামিয়ায় যাবেন।
গত ১২ অক্টোবর থেকে ক্যাম্পাসে এই আন্দোলন শুরু হয়। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন অল-ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)অভিযোগ করে, কোনও উসকানি ছাড়াই অনশনরত শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে প্রশাসন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে ক্যাম্পাসের দেওয়ালে দেশবিরোধী ও জম্মু-কাশ্মীর সংক্রান্ত স্লোগান দেখা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় এবং বিজেপি এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অবিন বাসিল অভিযোগ করেন, আন্দোলন ভিন্নখাতে নিতে প্রশাসনই এসব বিতর্কিত স্লোগান লিখিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এই ধরনের স্লোগানের তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের দাবি পরিষ্কার- ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। আজ শিক্ষকরা ও নিরাপত্তা কর্মীরা আমাদের আন্দোলনের তাবু ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি