আটক ও গ্রেফতারের আরও বাড়তে পারে জানিয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বেকির বলেন, শুদ্ধি অভিযান চলছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে বিচারক এবং ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারও রয়েছেন। এর মধ্যে শনিবার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ দেনিজলি থেকেই অর্ধশতাধিক সেনা সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন।
রবিবারও এক শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বক্তব্যে অভ্যুত্থানের জন্য মার্কিন সমর্থিত ও দেশটির নির্বাসিত ইসলামি চিন্তাবিদ ফেতুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করেছেন। যদিও গুলেন অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার বিষয় অস্বীকার করেছেন। গুলেন ওই ‘অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা’কে এরদোয়ানের সাজানো নাটক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি এরদোয়ানকে কুখ্যাত নাৎসি নেতা হিটলারের সঙ্গেও তুলনা করেন।
এর আগে শনিবার ইস্তানবুলে এক জনসভায় এরদোয়ান বারাক ওবামাকে উদ্দেশ্য করে গুলেনকে গ্রেফতার করে তুরস্কে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা কৌশলগত মিত্র হয়ে থাকি, তাহলে আমাদের অনুরোধ আপনাকে রাখতে হবে।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি লুক্সেমবার্গে সাংবাদিকদের বলেন, ‘গুলেন সম্পর্কে যেসব প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সে সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি অবগত। আর আমরা তুর্কি সরকারকে আগের মতোই আমন্ত্রণ জানাব যথাযথ তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য। যুক্তরাষ্ট্র তা বিচার বিবেচনা সাপেক্ষে তা গ্রহণ করবে।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় তুর্কি সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশের শাসনভার নেওয়ার দাবি করে, যা দেশটির টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। মধ্যরাতে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়ে তুরস্কের ডানপন্থী সরকার উচ্ছেদের দাবি করে দেশটির সেনাবাহিনীর একাংশ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে’ সশস্ত্র বাহিনী তুরস্কের ক্ষমতা দখল করেছে। টেলিভিশনের পর্দায় পড়ে শোনানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এখন ‘শান্তি পরিষদ’দেশ চালাবে এবং কারফিউ ও সামরিক আইন জারি থাকবে। কারফিউর বিরোধিতা করে এরদোয়ানের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে এলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
শেষ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর সব অংশের সমর্থন না থাকায় এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তৎপরতায় জনগণ রাস্তায় নেমে এলে বিদ্রোহী সেনাদের উদ্যোগ ভেস্তে যায়। সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জনতা রাজপথে অবস্থান নেয়, অপরদিকে পুলিশ বিদ্রোহী সেনাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সেনা কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ২৬৫ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে অভ্যুত্থানের চেষ্টাকারী ১০৪ জন। বাকিরা পুলিশ ও বেসামরিক লোকজন। তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম জানিয়েছেন, অভ্যুত্থান চেষ্টাকারীরা বাদে নিহতের সংখ্যা ১৬১ জন। সূত্র: বিবিসি।
/এএ/