ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মেয়ে ভবনের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছে। আর তাকে উদ্ধারে কয়েকজন মানুষ খালি হাতে ভেঙে পড়া ইট-পাথর সরাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বিমানহামলায় মেয়েটির পরিবারের সবাই নিহত হয়েছেন। শুধু মেয়েটিই বেঁচে আছে।
এর আগে আলেপ্পোতে বিমানহামলার পর আহত শিশু ওমরানের ছবি বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দিয়েছিল।
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক সপ্তাহের অস্ত্রবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর আলেপ্পোতে নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেয় সিরিয়া। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রাশিয়া ও সিরিয়া আলেপ্পোতে বিমানহামলা শুরু করে।
শনিবার সিরীয় সেনাবাহিনী ও সরকার সমর্থক মিলিশিয়ারা আলেপ্পোর উত্তরে বেশ কিছু এলাকা পুনর্দখল করে।
রাশিয়ার সমর্থনপুষ্ট সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনী দেশটির বেসামরিক নাগরিকদের ওপর যে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে তার কঠোর সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রবিবার জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সামান্থা পাওয়ার বলেছেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে রাশিয়া এবং আসাদ যুদ্ধ করছে। সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করার চেয়ে তারা ত্রাণবাহী গাড়িবহরে, হাসপাতালে এবং জীবন বাঁচাতে কাজ করে যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর বোমা ফেলছে। রাশিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় যেটা হচ্ছে সেটা সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ড নয়; সেটা বর্বরতা।’
সিরিয়ায় ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার দাবি। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীত ধর্মী। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য তারা আসাদ সরকারের বিদ্রোহ ঘোষণাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। তবে আসাদ সরকারের দাবি, আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করতে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে। আর রাশিয়া বাশার আল আসাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। আসাদ সরকারের সমর্থনে রাশিয়াও আইএস ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। সিরিয়া সংকটকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ছায়া যুদ্ধে মেতে ওঠেছে বলে অনেকেই মনে করেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এএ/