যুক্তরাষ্ট্রের এক তরফা পরমাণু চুক্তি বাতিলের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ইরানের রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে। শুক্রবার তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। আল জাজিরা লিখেছে, বিক্ষোভকারীরা সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকায় আগুন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী শ্লোগান দিয়েছে। তাদের বহন করা প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল, ‘ডাউন উইথ উইএসএ’, ‘ট্রাম্প উই আর টকিং ননসেন্স’ সহ বিভিন্ন বার্তা। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট পরমাণু চুক্তি বাতিলের সময় বলেছিলেন চুক্তিটি ভয়ঙ্কর, এক তরফা ও প্রতারণাপূর্ণ। ইরানের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ লিখেছে, বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ‘মৃত্যু কামনা’ করে শ্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ‘পিছ পা না হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে’।
ইরানকে পরমাণু অস্ত্র বানানো থেকে নিবৃত করার জন্য ২০১৫ সালে ইরান, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী সদস্য ও জার্মানির মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, পরমাণু বোমা বানানোর পথে হাঁটা বন্ধ করার বদলে ইরান পেয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি। আর বিশ্ব মোড়লরা ইরানকে পরমাণু অস্ত্র বানানো থেকে নিবৃত করতে পেরেছে। কিন্তু ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট বরাক ওবামার আমলে হওয়া ওই চুক্তিটি বাতিল করে দিয়েছেন, ইউরোপীয় মিত্রদের অনুরোধ উপরোধ উপেক্ষা করে।
১৯৭৯ সাল থেকে ধারবাহিকভাবে একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল ইরানের অর্থনীতি। পরমাণু চুক্তিটির কারণে তারা ওই অবস্থা কাটিয়ে ওঠার একটা সুযোগ পেয়েছিল। ইরান ও ইউরোপীয় নেতরা চেষ্টা করছেন চুক্তি কার্যকর রাখার।
অন্যদিকে, চুক্তি কার্যকর রাখতে ইরান সরকারের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধ অবস্থান নিয়েছেন কেউ কেউ। ইরানের জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা আহমাদ খাতামি শুক্রবার মন্তব্য করেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মতোই অবিশ্বস্ত। তাদের কারোর ওপরই আস্থা রাখা যায় না। চুক্তি রক্ষার বিষয়ে অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ায় তিনি রুহানির সমালোচনাও করেছেন।