ইরাকের উত্তর কুর্দি অঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে হামলার জন্য তুরস্ককে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরাকি সরকার। ওই হামলাকে এই অঞ্চলে নিজেদের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে বাগদাদ।
তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শনিবার বলেন যে সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীর কোনও অভিযান হয়নি। এর পর পর এ দাবিটি তুলে ইরাকের সরকার।
ইরাকের প্রেসিডেন্সি জানায়, শুক্রবারের হামলাটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের সুলায়মানিয়া বিমানবন্দরের আশেপাশে ঘটেছে। হামলার জন্য তুরস্ককে দায়ী করে বাগদাদ জানায়, ইরাকের মাটিতে শত্রু বাহিনী আছে এমন অজুহাতে বেসামরিক নাগরিকদের ভয় দেখানোর কোনও আইনি যৌক্তিকতা নেই। এ বিষয়ে আমরা তুর্কি সরকারকে দায়িত্ব নিতে এবং আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
তুরস্ক কয়েক দশক ধরে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে উত্তর ইরাক এবং উত্তর সিরিয়ায় বিমান হামলাসহ বেশ কয়েকটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে আঙ্কারা। কুর্দি-নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে-এর সঙ্গী মনে করে আঙ্কারা।
যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের প্রধান মাজলুম আবদি হামলার সময় সুলায়মানিয়া বিমানবন্দরে ছিলেন। তবে তার কোনও ক্ষতি হয়নি।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে ওই এলাকায় একটি কনভয়ের ওপর হামলা হয়েছে। সেখানে মার্কিন সামরিক কর্মীরা ছিলেন। তবে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
অন্তত ৯০০ মার্কিন সেনা সিরিয়ায় রয়ে গেছে। বেশিরভাগই কুর্দি-শাসিত উত্তর-পূর্বে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে আইএসআইএস বা আইএসআইএল সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবশিষ্টাংশের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তারা। সূত্র: আল জাজিরা