অনিশ্চিতয়তার মুখে পড়েছে আরও জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাবনা । বুধবার (২০ ডিসেম্বর) ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নেতা সাফ জানিয়েছেন, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের আগ্রাসন পুরোপুরিভাবে বন্ধ না করলে কোনও প্রকার আলোচনা হবে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই খবর প্রকাশ করেছে।
এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো মিসরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে বুধবার মিসর সফর করেছেন হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহ। মিসরীয় কর্মকর্তারা আরও একটি যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করতে চাইছিলেন।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গাজায় ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হাতে জিম্মিদের মধ্যে কারা নতুন যুদ্ধবিরতির আওতায় মুক্তি পাবে এবং বিনিময়ে ইসরায়েল কোন কোন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিতে পারে তা নিয়ে গভীর আলোচনা করছেন দূতরা।
তবে, একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, হানিয়াহ’র সঙ্গে তাদের এই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি।
হানিয়াহ-এর মিডিয়া উপদেষ্টা তাহের আল-নোনো রয়টার্সকে বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে শেষ না করা এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের জন্য মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি না করা পর্যন্ত আরও ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির বিষয়ে কোন প্রকার আলোচনা করতে ইচ্ছুক নয় হামাস।
তাহের বলেন, ‘ইসরায়েল তার আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার সময় আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করার কথা বলতে পারি না। আগ্রাসন বন্ধের পরে জিম্মি সম্পর্কিত যে কোনও প্রস্তাব নিয়ে অবশ্যই আলোচনা হবে।’
ওই সূত্রটি বুধবারের আলোচনার বিষয়ে সংক্ষেপে বলেন, জিম্মিদের মধ্যে বাকি সব নারী এবং দুর্বল পুরুষদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে জোর দিয়েছে ইসরায়েল।
মিসরীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, কয়েক ডজন জিম্মির বিনিময়ে এক সপ্তাহের জন্য যুদ্ধ বন্ধ করার ইসরায়েলি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস।
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর একটি ছোট দল ‘ইসলামিক জিহাদ’ জানিয়েছে, তাদের নেতা শীঘ্রই মিসর সফরে যাবেন এবং চলমান এ সংঘাতের সম্ভাব্য সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা করবেন।