ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার মিসর যাচ্ছে। এক হামাস কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানে মিসরীয় পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য তারা কায়রো যাচ্ছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
হামাসের ঘনিষ্ঠ সূত্রকে উদ্ধৃত করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয়ের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার কায়রো সফর করবে। সেখানে তারা মিসরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং প্রস্তাবটি সম্পর্কে নিজেদের পর্যালোচনা সহকারে মতামত তুলে ধরবে।
বৃহস্পতিবার গাজায় চলমান ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাবের কথা নিশ্চিত করেছে মিসর। দেশটি বলেছে, যুদ্ধবিরতিসহ তিন ধাপে সংঘাত অবসানের এই প্রস্তাব নিয়ে জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
এক বিবৃতিতে মিসর সরকারের ইনফরমেশন সার্ভিসের প্রধান দিয়া রাশওয়ান বলেছেন, বিভিন্ন পক্ষের জবাব পাওয়ার পর পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরবে কায়রো।
তিনি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কাছাকাছি নিয়ে আসা, ফিলিস্তিনিদের রক্তপাত থামানো এবং গাজা উপত্যকায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ও অঞ্চলটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি উদ্যোগ হলো প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা।
এর আগে মিসরীয় গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মিসরের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে পর্যায়ক্রমে জিম্মি মুক্তি এবং গাজা উপত্যকা ও ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরে অস্থায়ীভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি ফিলিস্তিনি সরকার গঠন করা। এই সরকার গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণ করবে।
মিসরীয় ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে। ১২০ থেকে ১৫০ ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে নারী, অসুস্থ এবং বৃদ্ধসহ ৪০ থেকে ৫০ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তির কথা বলা হয়েছে। মিসর এবং কাতার এই পরিকল্পনায় কাজ করবে।
মিসরীয় কর্মকর্তা এপিকে বলেছিলেন, কাতারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং ইসরায়েল, হামাস, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় সরকারগুলোর কাছে এ বিষয়ে উপস্থাপনও করা হয়েছে।