ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে মঙ্গলবার ইসরায়েলকে সহায়তা করেছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো। এরই মধ্যে পেন্টাগন আরও হাজার হাজার মার্কিন সেনা এবং অতিরিক্ত তিনটি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ব্যাপকতা প্রকাশ পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের কোথায় কোথায় মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং তারা কী ধরনের কার্যক্রমে জড়িত:
পূর্ব ভূমধ্যসাগর
ইসরায়েল ও লেবাননের সীমান্তবর্তী পূর্ব ভূমধ্যসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আক্রমণকারী জাহাজ এবং তিনটি গাইডেড-মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজ মোতায়েন রয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে এই যুদ্ধজাহাজগুলো ইসরায়েলকে সহায়তা করে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
হ্যারি এস. ট্রুম্যান নামক মার্কিন বিমানবাহী জাহাজটি সেপ্টেম্বরের শেষে পূর্ব ভূমধ্যসাগরের দিকে রওনা হয়। সোমবার পর্যন্ত এটি আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছিলো।
লোহিত সাগর
ইসরায়েলের দক্ষিণে অবস্থিত লোহিত সাগরে মার্কিন বাহিনী কয়েক মাস ধরে হুথি বিদ্রোহীদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর আক্রমণ প্রতিরোধের চেষ্টা করছে। হুথিরা হামাসের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে এবং ইরানের সমর্থনে হামলা চালাচ্ছে। মার্কিন কিছু জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে।
সোমবার পর্যন্ত মার্কিন নৌবাহিনী লোহিত সাগরে বেশ কয়েকটি গাইডেড মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজ মোতায়েন করেছে।
ওমান উপসাগর
ইরানের দক্ষিণে অবস্থিত ওমান উপসাগরে মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ আব্রাহাম লিঙ্কন একটি সম্প্রসারিত মোতায়েন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর সঙ্গে যুদ্ধবিমান এবং গাইডেড-মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজ রয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড জে. অস্টিন আগস্টে এই যুদ্ধজাহাজকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠান। বর্তমানে তা সেখানে অবস্থান করছে।
সামরিক ঘাঁটি
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা বিভিন্ন ঘাঁটিতে অবস্থান করছে। তবে পেন্টাগন কতজন অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে, তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি।
সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ সেনা রয়েছে। তারা ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হামলা প্রতিরোধে নিয়োজিত। পাশাপাশি সিরিয়ায় প্রায় ৯০০ সেনা মোতায়েন রয়েছে।
পারস্য উপসাগরের ইরানের বিপরীতে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত। এছাড়া বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেনের বিপরীতে অবস্থিত জিবুতিতেও মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে।
ইরাকের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কুয়েতে ২০২১ সালের হিসাবে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। ইরাক যুদ্ধের সময় কুয়েত ছিল মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক অঞ্চলে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস