ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনও সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইনের সীমার মধ্যে থেকে তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। বুধবার (২৩ জুলাই) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, ইসরায়েল যদি আবার হামলা করে, আমরা এবার আরও গভীরে আঘাত হানবো। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, ১২ দিনের যুদ্ধের পর সংঘর্ষ বন্ধ হলেও আমরা এর স্থায়িত্ব নিয়ে আশাবাদী নই। ইসরায়েল আমাদের ক্ষতি করেছে, আমরাও তাদের ঘায়েল করেছি। তারা তাদের ক্ষয়ক্ষতি লুকিয়ে রাখছে।
গত মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে পশ্চিমা প্রতিবেদনে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও ইরান বলছে, তাদের পরিকাঠামো এখনও সচল।
পেজেশকিয়ান বলেন, আমাদের পারমাণবিক সক্ষমতা কোনও স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়, তা রয়েছে আমাদের বিজ্ঞানীদের মনে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ভ্রান্ত’ বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গেছে।
তবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেছেন, আমরা পারমাণবিক অস্ত্র চাই না। এটি আমাদের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও মানবিক অবস্থান। তবে পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়ন আমাদের অধিকার এবং তা আমরা চালিয়ে যাবো।
সাক্ষাৎকারে তিনি ইসরায়েলের একটি সরাসরি হত্যাচেষ্টার প্রসঙ্গও তোলেন। গত ১৫ জুন তেহরানে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের এক বৈঠকে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানান পেজেশকিয়ান। এতে তিনি সামান্য আহত হন। প্রেসিডেন্ট বলেন, এটি ছিল আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উৎখাত পরিকল্পনার অংশ, তবে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে আল উদেইদ ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা কাতারের বিরুদ্ধে ছিল না। কাতার আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ। আমরা কাতার রাষ্ট্র নয়, বরং সেখানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করেই আঘাত হেনেছি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তেহরান পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে তা হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতার ভিত্তিতে। তিনি জানান, ইরানের পারমাণবিক সংস্থা বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা পর্যালোচনা করছে এবং শিগগিরই আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-কে এ সম্পর্কে অবহিত করা হবে।
এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার নতুন ধাপ শুক্রবার তুরস্কে শুরু হতে যাচ্ছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির ইউরোপীয় অংশীদার ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য ইঙ্গিত দিয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে।