ইরানে বিক্ষোভ উসকে দিতে হামলার ভাবনা ট্রাম্পের

ইরানে নতুন করে বিক্ষোভ উসকে দিতে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সীমিত কিংবা বড় পরিসরের হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।  

দুইজন মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চান, যাতে বিক্ষোভকারীরা সরকারের ভবন ও নিরাপত্তা স্থাপনায় আঘাত হানার সাহস পায়। এ জন্য সহিংসতার জন্য দায়ী বলে বিবেচিত সামরিক কমান্ডার ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করার পরিকল্পনা আলোচনায় রয়েছে।

একজন সূত্র আরও বলেছেন, আলোচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে বড় পরিসরের হামলাও রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিংবা পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাও লক্ষ্য হতে পারে। তবে এখনও ট্রাম্প কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইরান কর্মসূচির পরিচালক অ্যালেক্স ভাটাঙ্কা বলেছেন, বড় পরিসরের সামরিক বিদ্রোহ না হলে ইরানের বিক্ষোভ সাহসী হলেও শক্তির দিক থেকে দুর্বলই থেকেই যাবে।

ইরানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দেশটি সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকলেও কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে চায়। জাতিসংঘে ইরানের মিশন জানিয়েছে, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনা সম্ভব, তবে চাপ প্রয়োগ করা হলে ইরান আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে কঠোরভাবে আত্মরক্ষা করবে।

ইসরায়েলের কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, শুধু বিমান হামলা দিয়ে ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাত সম্ভব নয়। তার ভাষায়, শাসন পরিবর্তন চাইলে মাটিতে সেনা নামাতে হবে।

উল্লেখ্য, সোমবার রয়টার্সকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছে, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এতে মার্কিন বাহিনী রক্ষায় এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সক্ষমতা বাড়বে।

চলতি মাসের শুরুতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে এসব যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন শুরু হয়। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।