ইসরায়েলি কূটনীতিককে বহিষ্কার দক্ষিণ আফ্রিকার

দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের প্রেক্ষাপটে প্রিটোরিয়ায় নিযুক্ত ইসরায়েলের শীর্ষ কূটনীতিককে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।  

দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকের আচরণকে কূটনৈতিক অধিকারের চরম অপব্যবহার এবং ভিয়েনা কনভেনশনের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করা হয়। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ইসরায়েল দূতাবাসের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স অ্যারিয়েল সাইডম্যান দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাকে অপমান করেছেন এবং উচ্চপর্যায়ের ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সফর সম্পর্কে যথাযথভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সাইডম্যানকে কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গের দায়ে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ তথা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাকে দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়তে ৭২ ঘন্টা সময় বেধে দেওয়া হয়েছে।  কর্মকর্তারা বলেন, তার আচরণ দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক আস্থা ক্ষুণ্ন করেছে এবং প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক প্রোটোকল লঙ্ঘন করেছে।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলও দক্ষিণ আফ্রিকার কূটনীতিক শন এডওয়ার্ড বাইনোভেল্টকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ তথা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পালটা প্রতিশোধের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে আরও কঠোর থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার কূটনীতিক শন এডওয়ার্ড বাইনোভেল্ট ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তারা এই ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, ইসরায়েলের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে তাদের অনীহারই প্রতিফলন।

এই কূটনৈতিক সংঘাতের পেছনে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।। গাজায় গণহত্যার অভিযোগ এনে দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছে। অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।