ইরানে কোনও ধরনের হামলা হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মধ্যে তিনি এই মন্তব্য করলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, খামেনি বলেছেন, “আমেরিকানদের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।”
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলছে এবং তিনি একটি ‘গ্রহণযোগ্য’ সমাধানের আশা করছেন। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানিও আলোচনার একটি রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন।
তবে পারমাণবিক কর্মসূচির উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের জেরে ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহের শেষে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, রণতরিটির অবস্থান এখন আরব সাগরে।
মার্কিন রণতরির উপস্থিতি প্রসঙ্গে খামেনি বলেন, ট্রাম্প প্রায়ই বলেন তিনি জাহাজ নিয়ে এসেছেন... এসব দেখে ইরানি জাতি ভয় পাবে না।
এদিকে, রবিবার থেকে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দুই দিনব্যাপী সরাসরি গুলিবর্ষণের নৌ-মহড়া শুরু করার কথা রয়েছে ইরানের। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু পথটি দিয়ে আনা-নেওয়া করা হয়। ইরান এর আগে হুমকি দিয়েছিল যে আক্রান্ত হলে তারা এই প্রণালিটি বন্ধ করে দেবে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী এই এলাকায় ইরানকে যেকোনও ধরনের ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছে। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, “মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করছে যে তারা নিজেদের আঙিনায় কীভাবে লক্ষ্যভেদের অনুশীলন করবে।”
শনিবার ইরানে দুটি পৃথক বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণ উপকূলীয় বন্দর শহর বন্দর আব্বাসের একটি ভবনে বিস্ফোরণে একজন নিহত ও ১৪ জন আহত হন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একে ‘গ্যাস লিক’ জনিত দুর্ঘটনা বললেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ওঠে যে পাসদারান (আইআরজিসি) নৌ-কমান্ডারকে লক্ষ্য করে এই হামলা হয়েছে। তবে তাসনিম নিউজ এই খবর অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে আহভাজ শহরে আরেকটি বিস্ফোরণে চারজন নিহত হন, সেটির কারণও গ্যাস লিক বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মার্কিন সামরিক হামলা এড়াতে ইরানকে দুটি শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ করতে হবে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতায় ইরানে প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি ৬ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং আরও ১৭ হাজার মৃত্যুর খবর তদন্ত করছে। নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) সতর্ক করেছে যে নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিক্ষোভকারীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর এবারের দমন-পীড়ন ছিল নজিরবিহীন।
তবে রবিবার খামেনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ, রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি), ব্যাংক ও মসজিদে হামলার অভিযোগ তুলেছেন। তাসনিম নিউজের মতে, তিনি এই পরিস্থিতিকে একটি ‘অভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, অভ্যুত্থান দমন করা হয়েছে।