নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন সামরিক চাপ ও হুমকির মুখেও ইরান কেন এখনও ‘নতিস্বীকার’ করছে না, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে দুবার বিমানবাহী রণতরি, যুদ্ধবিমান ও বিপুল সমরাস্ত্র মোতায়েন করে ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করার চেষ্টার মধ্যেও তেহরানের অনড় অবস্থানে ট্রাম্প ‘কৌতূহলী’ হয়ে উঠেছেন বলে জানিয়েছেন তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
শনিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইটকফ বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে জানতে চেয়েছেন কেন তেহরান এখনও নমনীয় হচ্ছে না। উইটকফ বলেন, “আমি ‘হতাশ’ শব্দটি ব্যবহার করতে চাই না, কারণ প্রেসিডেন্টের হাতে অনেক বিকল্প আছে। তবে তিনি কৌতূহলী যে ইরান কেন এখনও নতিস্বীকার করছে না।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানকে একটি ‘অর্থবহ’ চুক্তিতে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এর মধ্যেই ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন দূতের মতে, বিপুল নৌ-শক্তি ও সামরিক চাপের মুখেও ইরান কেন নিজে থেকে এসে বলছে না যে, ‘আমরা পারমাণবিক অস্ত্র চাই না, বিনিময়ে আমরা এই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত’? তার মতে, ইরানকে সেই অবস্থানে নিয়ে আসা ‘বেশ কঠিন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাক্ষাৎকারে উইটকফ একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে তিনি ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহর নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে পাহলভি ইরানে ফেরেননি। তবে এই বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।
মার্কিন চাপের মুখে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে। তবে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা চাপের মুখে নতিস্বীকার করবে না। মঙ্গলবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংস করতে সফল হবেন না।
পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ আনলেও তেহরান তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। ইরান বলছে, তারা কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে চায়। মূলত দেশটির অর্থনীতির ওপর চেপে বসা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার লক্ষ্যেই তারা এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। গত ডিসেম্বরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পেছনেও এই অর্থনৈতিক সংকট বড় ভূমিকা রেখেছিল।