যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গতকাল সোমবার (২ মার্চ) একদিনে ইরানে ৯৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ৮৫ জনই বেসামরিক নাগরিক। আর বাকিরা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার গোষ্ঠী এইচআরএএনএ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল-জাজিরার।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গোষ্ঠীটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সোমবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে অন্তত ৭৪২ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ১৭৬ জনই শিশু।
এর আগে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নিহতের সংখ্যা জানিয়েছিলো ৫৫৫ জন।
নিহতের এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আল-জাজিরা।
এইচআরএএনএ বলছে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানের অনেক অবকাঠামোতে হামলা চালায়। এর মধ্যে সামরিক বাহিনীর স্থাপনা এবং দু’টি আবাসিক এলাকা রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে তেহরান। এ যুদ্ধের জেরে বন্ধ করা হয়েছে হরমুজ প্রণালি। গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ৯৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৪টি ড্রোন। এছাড়া এককটি এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের কথা জানিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালেও ইসরায়েল দক্ষিণ বেইরুতে এলাকা খালি করার নির্দেশ জারি করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দক্ষিণ বেইরুতের আল-ঘুবেইরি এবং হারেত হ্রেইক এলাকায় বসবাসকারীদের আসন্ন হামলার আগে এলাকা খালি করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মুখপাত্র আভিখাই আদ্রাই বলেন, “দক্ষিণ উপশহর এলাকায় উপস্থিত সকল বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। বিশেষ করে আল-ঘুবেইরি ও হারেত হ্রেইক এলাকায় অবস্থানকারীদের।”
ইরানে হামলার পর এবার প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। লেবাননে তাদেরকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের অনবরত হামলার প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলে সাফ জানিয়েছে দিয়েছে তারা। এমনকি, ইসরায়েল যুদ্ধ বিরতির চুক্তি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ গোষ্ঠীটির।