ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটির সরকার। এ উপলক্ষে গণমাধ্যম, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামি দিকনির্দেশনা বিষয়ক মন্ত্রী আব্বাস সালেহি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালেহি বলেন, শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান কাভার করতে দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি প্রায় ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি অংশ নেবেন। এর মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক আয়োজনের বিভিন্ন দিক বিশ্বের জনমতের সামনে তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান শুধু জাতির পক্ষ থেকে তাদের নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন নয়; এটি জাতীয় শক্তি, সামাজিক সংহতি এবং শত্রুদের মোকাবিলায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতারও প্রদর্শন।
সালেহি জানান, দেশের খ্যাতিমান প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতাদের একটি দল শেষ বিদায় অনুষ্ঠান নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করছে। এটি ঐতিহাসিক এই ঘটনার স্থায়ী দলিল হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়া অনুষ্ঠানকে সর্বোত্তমভাবে ধারণ ও সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রচারণাও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, আগামী সপ্তাহ ইরানি জাতির ব্যাপক উপস্থিতি প্রদর্শনের পাশাপাশি শিল্পীদের জন্যও স্থায়ী শিল্পকর্ম সৃষ্টির একটি সুযোগ হয়ে উঠবে।
আগামী সোমবার পর্যন্ত শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা চলবে। এর মধ্যে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৭ জুলাই পবিত্র নগরী কুমে, ৮ জুলাই ইরাকে এবং ৯ জুলাই মাশহাদে নামাজে জানাজা সম্পন্ন হবে। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ইরাকেও শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে এ উপলক্ষে শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।