সৌদি আরবের নতুন প্যাকেজ ভিসা কী, কোন কোন দেশ সুবিধা পাবে

আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিকল্পনা করার অর্থই হলো বিমানের টিকিট কাটা, হোটেল খোঁজা, ট্রাভেল বিমার ব্যবস্থা করা এবং সবশেষে ভিসার মতো বড় জটিলতা পার হওয়া। তবে পর্যটকদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি একদম সহজ করতে এবার সব সুযোগ-সুবিধা একসঙ্গে মিলিয়ে প্যাকেজ ভিসা নামের একটি নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ চালু করেছে সৌদি আরব। এই সেবার আওতায় একটি একক বুকিংয়ের মাধ্যমেই পর্যটন ভিসা, ফ্লাইটের টিকিট, হোটেলে থাকা এবং বাধ্যতামূলক ট্রাভেল বিমার সুবিধা পাওয়া যাবে।

বর্তমানে বিশ্বের সাতটি দেশের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা চালু করা হয়েছে। দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মিসর ও মেক্সিকো। অর্থাৎ, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা সৌদি আরবের পর্যটন মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। এই প্যাকেজ ভিসার মোট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০২.২ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৯ হাজার ২০০ টাকা), যার মধ্যে পর্যটন ভিসা এবং বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বিমার খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কীভাবে কাজ করে এই প্যাকেজ ভিসা?

প্রক্রিয়াটি শুরু হবে অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সি থেকে একটি পছন্দসই ট্রাভেল প্যাকেজ বেছে নেওয়ার মাধ্যমে। পর্যটকরা চাইলে আগে থেকে তৈরি কোনও হলিডে প্যাকেজ নিতে পারেন কিংবা নিজেদের পছন্দমতো তা সাজিয়ে নিতে পারেন। এরপর পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও পাসপোর্টের তথ্য আপলোড করে অনলাইনে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে। তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদন মিললেই ই-ভিসা ও ট্রাভেল বিমাসহ সব নথিপত্র সরাসরি ইমেইলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর জন্য আলাদা কোনও ভিসা আবেদন করতে হবে না এবং দূতাবাসে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই।

প্যাকেজে কী কী থাকছে ও শর্ত কী?

এই প্যাকেজের অধীনে প্রতিটি বুকিংয়ে অবশ্যই রিটার্ন ফ্লাইটের টিকিট এবং সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ন্যূনতম ফোর-স্টার (৪ তারকা) হোটেলের বুকিং থাকতে হবে। তবে এর সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে: ভ্রমণের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে প্যাকেজটি বুক করতে হবে, ভ্রমণের সর্বনিম্ন মেয়াদ ২ দিন এবং সর্বোচ্চ ৮৮ দিন হতে হবে, হোটেলের বুকিং অবশ্যই ফ্লাইটের সময়সূচির সঙ্গে মিলতে হবে এবং পুরো অবস্থানের সময়কালকে কভার করতে হবে ও প্রথম দুই দিনের জন্য প্যাকেজের সর্বনিম্ন মূল্য হতে হবে ৪ হাজার সৌদি রিয়াল এবং পরবর্তী প্রতি অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ১ হাজার সৌদি রিয়াল যুক্ত হবে।

ভ্রমণকারীদের জন্য এটি কতটুকু ভালো?

যারা একদম ঝঞ্ঝাটমুক্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা চান, তাদের জন্য এই প্যাকেজ ভিসা সময় এবং কাগজপত্রের ঝামেলা দুটোই বাঁচাবে। তবে যারা নিজেদের মতো করে সস্তায় ঘোরার পরিকল্পনা করেন, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত নাও হতে পারে। কারণ ফোর-স্টার হোটেলের বাধ্যবাধকতা এবং প্যাকেজের সর্বনিম্ন মূল্যের শর্তের কারণে এটি বেশ ব্যয়বহুল। ফলে যারা নমনীয়তা ও কম খরচে ঘুরতে চান, তাদের জন্য নিয়মিত সৌদি পর্যটন ই-ভিসাই এখনও সেরা বিকল্প।

সূত্র: এনডিটিভি