ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে কী আছে, কেন ট্রাম্পের নিশানায় এই পাহাড়

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত ইসরায়েলের নতুন দাবির মুখে দেশটির সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন-এ হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের মধ্যেই মঙ্গলবার তিনি বলেন, আমরা খুব শিগগিরই ওই এলাকায় হামলা চালাতে যাচ্ছি। আর এটি ঠেকাতে তাদের (ইরানের) কিছুই করার থাকবে না।

পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে তেহরান জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে কোনও ধরনের হামলা চালানো হলে তা আঞ্চলিক যুদ্ধকে আরও বাড়িয়ে দেবে।

ইসরায়েলের দাবি, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় অন্যান্য পারমাণবিক কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং উন্নত সেন্ট্রিফিউজগুলো এই পাহাড়ে স্থানান্তর করেছে। তবে এর কোনও প্রমাণ তারা দেয়নি। ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন যে ওয়াশিংটন এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন কী?

মধ্য ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমপ্লেক্সের প্রায় ১.৬ কিলোমিটার দক্ষিণে এটি অবস্থিত, যেখানে ২০২৫ সালের জুনে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ফার্সি ভাষায় পিকঅ্যাক্স (কুড়াল) শব্দযুক্ত ‘কুহ-ই কোলং গাজ লা’ পাহাড়ের ভূগর্ভে এটি তৈরি করা হয়েছে। ভূপৃষ্ঠের অন্তত ১০০ মিটার গভীরে অবস্থিত হওয়ায় এটি বিমান হামলা বা স্থল অভিযানের মাধ্যমে ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন।

২০২০ সালে নাতাঞ্জের একটি সেন্ট্রিফিউজ অ্যাসেম্বলি ওয়ার্কশপে বিস্ফোরণের পর এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) ইরান জানিয়েছিল, এখানে সমৃদ্ধকরণের কাজে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজ তৈরি করা হবে। স্যাটেলাইট চিত্রে সেখানে একাধিক সুরঙ্গ, সুদৃঢ় নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং বিমান হামলা প্রতিরোধী কংক্রিটের প্রবেশদ্বার দেখা গেছে। স্থানটি এখনও পুরোপুরি চালু হওয়ার কোনও স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি, তবে গত জুনে হামলার পর নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।

সেখানে কি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আছে?

ইসরায়েলের দাবি, ২০২৫ সালের জুনের হামলার পর ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ এবং উন্নত সেন্ট্রিফিউজ পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে সরিয়ে নিয়েছে। তবে এর পক্ষে কোনও প্রমাণ দেওয়া হয়নি। গত ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কেন এই স্থানে হামলা চালায়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

পূর্ববর্তী হামলায় নাতাঞ্জ, ইস্পাহান ও ফোরদোর কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছিল। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল ইরানের প্রায় ৪৫০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের ওপর নজর দিচ্ছে।

তবে ট্রাম্প নিজেই ইসরায়েলি দাবি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমাদের কাছে এমন কোনও তথ্য বা রেকর্ড নেই।’

ইরানও এই স্থাপনায় কোনও অপ্রকাশিত পারমাণবিক কাজ চালানোর কথা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবলই শান্তিপূর্ণ শক্তিসম্পদ হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই