কী, কেন, কীভাবে

হরমুজ খুলতে ইরানের সর্বশেষ শর্ত কি মানবেন ট্রাম্প

পুরোপুরি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক শর্ত দিয়েছে ইরান। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ ছেড়ে দেওয়া। ফলে ইরান-ওমানের মধ্যে চলমান সমঝোতা হলেও দ্রুত হরমুজে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শনিবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর এসব শর্তের কথা জানান। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হামলা এবং দেশটির বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ করতে হবে।

ইরানের এসব দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ফেলতে পারে। তাকে হয় তেহরানের কিছু দাবিতে ছাড় দিতে হবে, নয়তো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে অব্যাহত বিঘ্ন মেনে নিতে হবে।

হরমুজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া বা জাহাজ চলাচলের জন্য তেহরানকে অর্থ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার যেকোনও ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছে ওয়াশিংটন। তবে ইরানের বলেছে, যুদ্ধের আগের অবস্থায় হরমুজকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পররাষ্ট্র দফতরের সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড শেঙ্কার বলেন, অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে সমঝোতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ট্রাম্প নিজেও এ সপ্তাহে স্বীকার করেছেন, জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। তিনি বলেন, ইরান সবসময় কিছুতে গুলি করতে পারে অথবা মাইন পুঁতে দিতে পারে।

প্রসঙ্গত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল সাধারণত যে প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, ইরানের এই শর্তগুলো সেখানে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিল। একই সঙ্গে এটি স্পষ্ট করেছে যে, শিপিং রুট নিয়ে ওমানের সঙ্গে করা চুক্তিকে প্রণালীটি পুনরায় খোলার জন্য যথেষ্ট মনে করছে না তেহরান। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কোনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: গালফ নিউজ