সৌদি নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে থাকছে তুরস্ক

লোহিত সাগরে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনে যোগদানের বিষয়টি প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে তুরস্ক। গত সপ্তাহে মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই ঘোষণা আঙ্কারা ও রিয়াদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরবের আমন্ত্রণে বাব আল-মান্দেব প্রণালির মধ্য দিয়ে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে গত ২৮ জুলাই রিয়াদে একটি প্রযুক্তিগত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই চিফ অব জেনারেল স্টাফদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রণালয়টি আরও জানায়, বৃহস্পতিবার জেদ্দায় এই সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আরেকটি সমন্বয় সভায় অংশ নেয় তুরস্ক। বিবৃতিতে বলা হয়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নির্বিঘ্ন প্রবাহ নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ অব্যাহত রয়েছে।

গত সপ্তাহে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে তিন দেশ যৌথ নিরাপত্তা বাধ্যবাধকতাসহ একে অপরের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই লোহিত সাগর জোটটিই হতে যাচ্ছে সেই প্রথম ক্ষেত্র, যেখানে তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যকার এই নতুন মৈত্রী আরও গভীর রূপ নেবে।

লোহিত সাগরে নিরাপত্তা জোরদার করতে গত মাসে ১৩টি দেশের একটি সামুদ্রিক সামরিক জোট গঠনের কথা ঘোষণা করেছিল সৌদি আরব। গত ২০ জুলাই হুথিরা সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে প্রণালি বন্ধ থাকায় লোহিত সাগরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া তেলের চালান ব্যাহত হচ্ছিলো, যার পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদ এই জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী এই জোটে যুক্ত রয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, বাংলাদেশ, কমোরোস, জিবুতি, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সোমালিয়া এবং ইয়েমেন। জোটটির সদর দফতর রিয়াদে স্থাপন করা হবে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই