যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি স্পিকারের খোঁচা, বললেন ‘মিথ্যাবাদী’

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ ও বিভিন্ন পদক্ষেপে ইরানের অর্থনীতি ‘চূর্ণ-বিচূর্ণ’ হয়ে যাবে, মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্টের এমন দাবিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

গত ১৪ দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে ১৩ কোটি (১৩০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি সচিব বেসেন্টের এই দাবির জবাবে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ গালিবাফ লিখেছেন, ‘মিথ্যাবাদী, মিথ্যাবাদী, তোমার প্যান্টে আগুন লেগেছে’।

প্রকৃত ‘১৩০’ সংখ্যার হিসাব টেনে গালিবাফ বেসেন্টকে পরামর্শ দেন তিনি যেন তার কর্মীদের দিয়ে মুডি'স-এর হিসাবগুলো পর্যালোচনা করান। তিনি জানান, সেই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ সম্পর্কিত খরচ ১৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ পল ক্রুগম্যানের লেখা ‘স্কট বেসেন্ট বাজারে বিভ্রান্তি ছড়াতে ব্যর্থ’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ শেয়ার করে গালিবাফ আরও লিখেছেন, ‘মিথ্যাবাদী, মিথ্যাবাদী, ইয়েল্ডে (বন্ড সুদের হারে) আগুন লেগেছে।’

এর আগে ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট ইরানের ব্যর্থ অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেবে। গত দুই সপ্তাহে ১৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মার্কিন ব্যবস্থাপনায় বাজারে আনা হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানে মার্কিন হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপে মার্কিন মিত্র আরব দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান ও অবকাঠামোগুলোতে হামলা চালায় ইরান। পরবর্তীতে যুদ্ধ বন্ধ ও আলোচনার পথ সুগম করতে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় জুন মাসে ইসলামাবাদে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে দুই দেশ। তবে তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন চুক্তি অনুযায়ী তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, ফলে এর বাস্তবায়ন হুমকির মুখে পড়েছে।

সূত্র: আনাদোলু