নেপালের রসুয়া জেলায় বাস চড়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের বিশালাকার পানির দেয়াল ধেয়ে আসতে দেখে বেঁচে ফেরার সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন অঞ্জনা রাজা। তবে জীবন বাঁচানোর তাগিদে মুহূর্তের মধ্যে চলন্ত বাস থেকে লাফ দিয়ে প্রায় ৫০০টি সিঁড়ি টপকে যান তিনি ও তার স্বামী পট্টাভিরামন ভেঙ্কটেশন। সামনে ঝুলতে থাকা চোখ রাঙানো মৃত্যুকে হারিয়ে একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে অলৌকিকভাবে প্রাণ বাঁচিয়েছেন এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন দম্পতি।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার বাসিন্দা এই দম্পতি তিব্বতে তাদের প্রথম তীর্থযাত্রায় এসেছিলেন। চীন সীমান্তবর্তী নেপালের তিমুরে গ্রামের মধ্য দিয়ে বাসে যাওয়ার সময় পাহাড় থেকে হঠাৎ কাদা ও পানির তাণ্ডব নেমে আসে। প্রথমে ধেয়ে আসা ৬০ থেকে ৭০ ফুট উঁচু বাদামি রঙের সেই তাণ্ডবকে দাবানল ভেবে ভুল করেছিলেন ভেঙ্কটেশন। মাত্র ৫০ ফুট দূরত্বে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ভূমিকম্প নাকি তুষারধস, তা বুঝে ওঠার আগেই অঞ্জনা দেখতে পান বাসের ড্রাইভার, কন্ডাক্টর ও দুজন সহকারী ইতোমধ্যে গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পালিয়েছেন।
অঞ্জনা আর এক মুহূর্তও দেরি না করে স্বামীর কলার চেপে ধরে চিৎকার করে বলেন, ‘দৌড়াও!’ বাস থেকে বের হয়ে পাহাড়ি ঢালের দিকে মাত্র ১০ ফুট উঠতেই তারা দেখতে পান দৈত্যাকৃতির সেই ধ্বংসলীলা। পাহাড়ি ঢালে উঠে প্রথমে তারা একটি পুলিশ বেস ক্যাম্পে পৌঁছান, কিন্তু চোখের সামনেই সেই ক্যাম্প ও ভেতরের মানুষগুলোকে ভেসে যেতে দেখেন তারা।
জীবনের ঝুঁকিতে কোনও উপায় না দেখে তারা পাহাড়ের আরও ওপরের দিকে দৌড়াতে শুরু করেন। পথিমধ্যে ঘরবাড়ি ধসে পড়া এবং বানের পানিতে মানুষের ভেসে যাওয়ার আকুতি ও আর্তনাদ দেখতে পান। এক গাইড এবং চরম প্রাণশক্তির জোরে কাদামাখা ও পিচ্ছিল রাস্তা অতিক্রম করে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পাহাড়ের চূড়ায় একটি সমতল জায়গায় পৌঁছে যান তারা।
অঞ্জনা বলেন, আমি নিশ্চিত করছিলাম যেন সে (ভেঙ্কটেশন) আমার পাশেই থাকে... আমি বারবার তাকে শক্ত করে ধরে রাখছিলাম। আমি শুধু তাকে আমার জীবনে পেতে চেয়েছিলাম।’ পুরো পথজুড়ে স্বামীকে হাতছাড়া করেননি তিনি।
পাহাড়ের ওপরে ওই রাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য পর্যটকদের সঙ্গে একটি ছাগলের গোয়ালঘরে কোনোমতে রাত কাটান তারা। পরদিন তাদের আকাশপথে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। ভেঙ্কটেশন আজও এই বেঁচে ফেরাকে ‘অলৌকিক ঘটনা ছাড়া আর কিছুই নয়’ বলে মনে করেন। কেবল এই দম্পতিই নন, তাদের ট্যুর বাসের সব যাত্রীই শেষ পর্যন্ত বেঁচে গেছেন।
গত ২৬ আগস্ট তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে বয়ে যাওয়া এই আকস্মিক বন্যায় নেপালে ৭০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিকসহ ২ হাজার ৪২৬ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, অন্তত ৯০ জন আমেরিকান নাগরিকের কোনও খোঁজ মিলছে না। অন্যদিকে তিব্বত অংশে এ পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু ও ৫ শতাধিক মানুষ নিখোঁজের খবর নিশ্চিত করেছে সে দেশের গণমাধ্যম।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

মৃত্যুর স্রোতের মাঝে ছাদে একা, টি-শার্ট উড়িয়ে সেনা হেলিকপ্টারের নজর কেড়ে বাঁচলো কিশোর







