একটি বিশালাকার এয়ারবাস এ৩০০ উড়োজাহাজের শেষ অবতরণ কোনও বিমানবন্দরে হয়নি, হয়েছিল ইজিয়ান সাগরের তলদেশে। ডাইভিং পর্যটন জোরদার করা এবং সামুদ্রিক জীবনের জন্য একটি কৃত্রিম প্রবাল প্রাচীর (রিফ) তৈরি করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে তুরস্কের আইদিন প্রদেশের কুশাদাসি উপকূলীয় শহরের কাছে অবসরপ্রাপ্ত বিমানটি ইচ্ছা করেই সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।
২০১৬ সালের জুনে এক শান্ত ও রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে ৫৪ মিটার দীর্ঘ বিমানটিকে সাগরে নামানো হয়। প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় পর এটি প্রায় ২২ মিটার গভীরে বালুময় তলদেশে গিয়ে স্থির হয়।
সামুদ্রিক আকর্ষণ হয়ে ওঠার আগে বিমানটির দীর্ঘ ইতিহাস ছিল। ১৯৮০ সালে তুলুসে নির্মিত বিমানটি গ্রিস অলিম্পিক এয়ারওয়েজ-এ দীর্ঘ দুই দশক যাত্রী পরিবহন করে। ২০০৬ সাল থেকে এটি তুরস্কে কার্গো বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ৩৬ বছর পর এর উচ্চ পরিদর্শন খরচের কারণে এটি বাণিজ্যিকভাবে অচল হয়ে পড়লে আইদিন পৌরসভা ২ লাখ ৭০ হাজার তুর্কি লিরায় (তৎকালীন প্রায় ৯৩ হাজার ডলার) বিমানটি কিনে নেয়। এরপর ইস্তাম্বুল থেকে সড়কপথে কুশাদাসিতে এনে এটিকে সাগরে ডুবানোর জন্য পুনরায় একত্রিত করা হয়।
সাগরে পাঠানোর আগে এর কাচ, ধারালো অংশ ও বিপজ্জনক উপাদানগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। বর্তমানে ১৭ মিটার গভীর থেকেই ডুবুরিরা বিমানের পুরো অবয়ব দেখতে পান। পাশে দিয়ে ভেতরে ঢুকে ৫৪ মিটার দীর্ঘ ও প্রায় ৪৫ মিটার ডানা বিশিষ্ট এই বিমানের ককপিটে গিয়ে সেখানকার আসনগুলোতে বসার সুযোগ পাচ্ছেন তারা।
ঝড়ঝাপ্টা সহ্য করার জন্য বিমানটিকে সমুদ্রের তলদেশে শক্তভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে। এর আগে তুরস্ক পর্যটন বাড়াতে তিনটি ছোট বিমান সাগরে নিমজ্জিত করলেও এয়ারবাস এ৩০০ ছিল সাগরের তলদেশে পাঠানো দেশের প্রথম এত বড় আকারের উড়োজাহাজ।
সূত্র: এনডিটিভি