বসতিতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে ব্রিটেন, কঠোর জবাবের আহ্বান ইসরায়েলের

পশ্চিমতীরের বিতর্কিত ইহুদি বসতিগুলোর সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে পারে যুক্তরাজ্য। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারই, অর্থাৎ আজ ইসরায়েলি বসতিভিত্তিক পণ্যের ওপর এই পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপে জেরুজালেমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিতর্কিত ‘ই-ওয়ান’এলাকায় নতুন করে বড় ধরনের ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয় ইসরায়েল। এতে পশ্চিমতীরের প্রধান ফিলিস্তিনি জনপদগুলোর মধ্যবর্তী ভৌগোলিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এর জবাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সেখানকার বসতিগুলোর ওপর পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে গত মাসেই গুঞ্জন ওঠে।

পরবর্তীকালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড আইনপ্রণেতাদের জানান, ই-ওয়ান পরিকল্পনার জবাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে লন্ডন। তবে সে সময় বসতি পণ্যের ওপর সম্পূর্ণ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেননি।

তবে নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানায়, এই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নেই এবং মঙ্গলবারই এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বসতি নির্মাণকাজে নিয়োজিত বিভিন্ন কোম্পানির ওপরও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।

এই সংবাদের চরম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি ইসরায়েলে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় স্মোটরিচ ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, আমরা চরমপন্থী ইসলামপন্থীদের দখলে থাকা দেশের কোনও ইহুদিবিরোধী সরকারের পায়ের পাপোশ হবো না, যারা ইহুদি ও ইসরায়েল রাষ্ট্রের ওপর হামলা চালিয়ে নিজেদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ধস থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘ইসরায়েলে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের দিন শেষ’।

অন্যদিকে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গভীর এক্সে এক স্প্যানিশ বার্তায় যুক্তরাজ্যের মালিকানাধীন বিতর্কিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বেন গভীর বলেন, যতদিন ব্রিটিশ দখলদারিত্ব বহাল থাকবে, ততদিন পর্যন্ত মালভিনাস বা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিন এবং যুক্তরাজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করুন।

বেন গভীর যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ‘সহিংসভাবে ছিনতাই’ এবং ‘আর্জেন্টিনার জনগণের অর্থ চুরির’ অভিযোগও তোলেন। পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই বেন গভীরের সেই পোস্টটি রিটুইট করেন। 

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল