ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের পার্লামেন্টে দেওয়া এক আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পরপরই ব্রিটেনসহ বিশ্বের ১২টি পশ্চিমা দেশ অবৈধ ইহুদি বসতির পণ্যের ওপর কঠোর ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপের যৌথ ঘোষণা দিয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে সই করা দেশগুলো হলো, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, পোল্যান্ড, পর্তুগাল ও সুইডেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ হিসেবে বিবেচিত বসতিগুলোর পণ্যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপে তারা ঐকমত্য পোষণ করেছে। যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো ইসরায়েলকে বসতি সম্প্রসারণ অবিলম্বে বন্ধ করা, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের নীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্সে ভাষণ দেওয়ার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাস চরম আকার ধারণ করেছে।
তিনি চলতি বছর ফিলিস্তিনিদের ওপর গড়ে প্রতিদিন ছয়টি করে হামলার কথা উল্লেখ করে জানান, যুক্তরাজ্যের মতে এটি স্পষ্টত ফিলিস্তিনিদের ‘জাতিগত নিধন’, যা বসতি স্থাপনকারী সন্ত্রাসীরা করছে।
ইসরায়েল সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসরায়েল সরকার এটি দেখেও না দেখার ভান করছে, এমনকি ফিলিস্তিনিদের বাধ্য হয়ে বাস্তুচ্যুত করাকে সমর্থন জোগাচ্ছে।
মিলিব্যান্ড ঘোষণা করেন যে যুক্তরাজ্য বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে, অবৈধ সম্প্রসারণে সহায়তা করা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবে এবং দখলদারিত্বে ব্যবহৃত অস্ত্রের রফতানি লাইসেন্স বাতিল করবে। একই সঙ্গে ফ্রান্স ও কানাডাও একই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে।
তিনি আরও জানান, কেবল গত চার বছরে আগের ২৪ বছরের চেয়েও বেশি বসতি অনুমোদন করা হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬৫টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়কে সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং ৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি গৃহহীন হয়েছেন।
ইসরায়েলি জনগণের সঙ্গে তাদের কোনও বিরোধ নেই উল্লেখ করে মিলিব্যান্ড বলেন, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইসরায়েলি জনগণের অটুট বন্ধন রয়েছে, আমাদের আপত্তি কেবল ইসরায়েল সরকারের বর্তমান আচরণের ওপর।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল