ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাখা সেনা ও গোয়েন্দা স্থাপনার সংখ্যা কমানোর বিষয়ে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে গোপন ও অপ্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ সমাপ্তির দিকে নিয়ে যেতে সফল হলে অঞ্চলটিতে ঐতিহাসিক এই কৌশলগত পরিবর্তন আনা হতে পারে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন ও লিবিয়ায় সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে স্থায়ী সামরিক ও গোয়েন্দা ঘাঁটি গড়ে তোলে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধ এসব ঘাঁটির সুরক্ষার বড় দুর্বলতা প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং মার্কিন স্থাপনাগুলো ইরানি হামলা ও ড্রোন আক্রমণের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের রিয়াদে সিআইএ-এর আউটপোস্টটি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া বাহরাইন, কাতার ও কুয়েতের ঘাঁটিতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত ও মেজাজের ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য আগাম প্রস্তুতি নিতেই এই আলোচনা করছেন গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তারা। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে আসছেন। বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে স্থায়ী ঘাঁটি না রেখে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি মিশন চালিয়ে আবার ফিরে আসার চিন্তাভাবনা চলছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত সব স্থাপনা মেরামতের খরচের কথা চিন্তা করে পুনরায় নির্মাণ না-ও করা হতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জুলস জে হার্স্ট থ্রি বলেন, আমাদের অবকাঠামোর কতটা ক্ষতি হয়েছে তার চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও জানা নেই। এটি নির্ভর করবে আমরা সেগুলো কীভাবে পুনরায় নির্মাণ করব অথবা আদৌ করব কি না তার ওপর।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সেনা এবং দুটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন রয়েছে। তবে হামলা থেকে রক্ষা পেতে কিছু স্থাপনা ভূগর্ভে স্থানান্তরের বিষয়েও মূল্যায়ন করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। পেন্টাগন ও সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেনি, আর সিআইএ মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সেনা কমিয়ে সেখানকার নিরাপত্তার দায়িত্ব আঞ্চলিক অংশীদারদের ওপর দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বা আনুষ্ঠানিক আদেশ এখনও জারি হয়নি। মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, পঞ্চম ফ্লিটের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র বাহরাইনে সদস্যরা শিগগিরই ফিরছেন না। তিনি বলেন, আমরা খুব শিগগির সেখানে ফিরে যাচ্ছি না।
সূত্র: সিএনএন

ইসরায়েল ছেড়েছেন ১৩৭০ চিকিৎসক, স্বাস্থ্য খাতে শঙ্কা
পুরোনো ব্যাটারি দিয়ে নতুন উপাদান তৈরি করছে চীন







