সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের ত্রিমুখী প্রতিরক্ষা চুক্তি বা ‘মক্কা প্যাক্ট’ বাস্তবায়নের জন্য গঠিত সচিবালয়ের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক হ্যান্ডআউটে বলা হয়েছে, মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট যা জোটের প্রাথমিক নাম, এর আওতায় প্রথম মহাসচিব হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল নোমান মাহমুদকে নিয়োগ দেওয়ায় পাকিস্তান সরকার আনন্দিত। মহাসচিব হিসেবে তিনি রিয়াদে প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া এই জোটের সাধারণ সচিবালয়ের নেতৃত্ব দেবেন।
গত আগস্টে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক ঐতিহাসিক মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতায় তিন দেশের যেকোনও একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে তিন দেশের ওপরই আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইসলামাবাদ ও রিয়াদের মধ্যে একটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
কে এই নোমান মাহমুদ?
বেলুচ রেজিমেন্টের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদ ২০১৯ সালের এপ্রিলে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি পান। তিনি এর আগে ইসলামাবাদে ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির ৩৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলায় একটি ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল হওয়ার আগে মেজর জেনারেল পদমর্যাদায় তিনি ইন্টার-সর্ভিস ইন্টেলিজেন্সের অ্যানালাইসিস উইংয়ের মহাপরিচালক ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান আর্মি জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি শাখার ইন্সপেক্টর-জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া তিনি ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত একাদশ কোরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই বছরের নভেম্বর তার স্থলাভিষিক্ত হন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামিদ।
সূত্র: উইয়ন নিউজ