অর্ধশতাব্দীর রেকর্ড ভেঙে পূর্ণ মেয়াদ পূর্ণ করেছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলের জাতীয়তাবাদী জোট সরকার। ১৯৭৪ সালে গোল্ডা মেয়ারের পর একমাত্র প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুরো চার বছর ক্ষমতায় থাকার এই বিরল নজির গড়লেন তিনি।
রাজনৈতিক অস্থিরতা, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা, গাজা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী সংঘাত-ইতিহাসের অন্যতম উত্তাল ও সংকটময় সময় অতিক্রম করেছে তার সরকার। দীর্ঘ ৩৮ বছর পর প্রথমবার কোনও ধরনের আগাম ভাঙন ছাড়াই নির্দিষ্ট মেয়াদে গত ১৭ জুলাই বিলুপ্ত হয়েছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট।
কিন্তু আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে কি আবারও সপ্তমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়বেন নেতানিয়াহু? নাকি বিদায় নিতে হবে তাকে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জনমত জরিপের তথ্যে ভেসে উঠছে এক চরম রহস্য ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সমীকরণ।
জনপ্রিয় বাজির বাজারে নেতানিয়াহুকে পেছনে ফেলে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছেন দেশটির সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোট। মাত্র এক বছর আগে নতুন মধ্যপন্থি সিওনিস্ট দল ইশার গঠন করা আইজেনকোটের দিকেই যেন ঝোঁক বেশি বাজি ধরা মানুষদের।
পলিমার্কেটে আইজেনকোটের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে প্রায় ৪৮ শতাংশ, যেখানে নেতানিয়াহুর পক্ষে ৩৫ থেকে ৩৬ শতাংশ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট রয়েছেন প্রায় ১০ শতাংশে এবং আবিগডোর লিবারম্যান ২ শতাংশের নিচে। অন্যদিকে কালশি প্রেডিকশন মার্কেটেও ৪৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আইজেনকোট, নেতানিয়াহু ৩৪ শতাংশ এবং বেনেট ৮ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্নে কালশিতে নেতানিয়াহুর উত্তরসূরি হিসেবে আইজেনকোটকে প্রায় ৬০ শতাংশ এগিয়ে রাখা হয়েছে।
প্রেডিকশন মার্কেটের মতো সুনির্দিষ্ট না হলেও জনমত জরিপগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, আইজেনকোটের ইশার এবং নেতানিয়াহুর লিকুদ দুই দলই গড়ে ২১ থেকে ২৩টি আসন নিয়ে সমানে সমান লড়ছে। বেনেটের দল গড়ে ১১টি, ইয়ার গোলানের দ্য ডেমোক্র্যাটস ৯-১০টি, লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু ৮-৯টি এবং কট্টর ডানপন্থি বেন-গভীরের ওৎজমা ইহুদিত প্রায় ৮টি আসন পেতে পারে। কান, এন১২ ও চ্যানেল ১৩-এর সাম্প্রতিক জরিপে আইজেনকোট নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে অথবা সমান অবস্থানে রয়েছেন।
১২০ আসনের নেসেটে কোনও একটি দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। নেতানিয়াহুর বিদায়ী জোটের দলগুলো (লিকুদ, রিলিজিয়াস সিওনিজম, ওৎজমা ইহুদিত, শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম) সব মিলিয়ে ৫১ থেকে ৫৪টি আসন পেতে পারে। কেবল ডানপন্থি চ্যানেল ১৪-এর জরিপেই লিকুদ জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠ দেখানো হয়েছে। সিওনিস্ট বিরোধী দলগুলোও ৫০ থেকে ৫৫টি আসনের মধ্যে আটকে আছে, আর আরব দলগুলো পাচ্ছে প্রায় ১৩টি আসন।
যেহেতু সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন, তাই কোনও জোটই এককভাবে সেই জাদুকরী সংখ্যা স্পর্শ করতে পারছে না। ফলে নির্বাচনের পর আবারও শুরু হবে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও দরকষাকষি। নেতানিয়াহু শেষ পর্যন্ত মসনদে থাকবেন কি না, তা নির্ভর করবে লিকুদ পার্টির আসন সংখ্যা ও নির্বাচন-পরবর্তী জট খোলার কৌশলগুলোর ওপর। তবে রাজনৈতিক প্যাঁচ আর সমীকরণ মেলানোর এই নাটকে নেতানিয়াহু যে বেশ অভিজ্ঞ খেলোয়াড়, তা ইতিহাস বহুবার প্রমাণ করেছে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ