তুরস্কের আরারাত পর্বতের কাছে দুরুপিনার গঠনে গবেষণারত একটি দল কাঠকয়লার মতো পোড়া কাঠ পেয়েছে বলে দাবি করেছে। বাইবেলে উল্লিখিত নুহের নৌকার ধ্বংসাবশেষ বলে বিশ্বাস করা হয় স্থানটিকে।
নোয়াস আর্ক স্ক্যানস নামের দলটি কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থানটিতে স্ক্যান চালাচ্ছে। ৫১৫ ফুট দীর্ঘ এ গঠনের ভেতরে তারা ড্রোনও পাঠিয়েছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ড্রু জোনস জানান, এরপর তারা বেশ কিছু আবিষ্কার করেছেন।
কয়েক দিন আগে তিনি ঘোষণা করেন, তারা নুহের নৌকার পোড়া অবশিষ্টাংশ পেয়েছেন। এর মধ্যে ভূগর্ভের প্রায় ৩০ ফুট নিচে না-পোড়া কাঠও মিলেছে। জোনস বলেন, পুড়ে যাওয়ায় কাঠ সংরক্ষিত হয়েছে। কাঠ পোড়ার সম্ভাব্য বেশ কয়েকটি কারণও তিনি প্রস্তাব করেন। এর একটি হতে পারে ওই রাখালের আগুন, যিনি কয়েক শতাব্দী আগে নৌকাটিকে আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করার সময় অজান্তেই ক্যাম্পফায়ার জ্বালিয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালে যিনি গঠনটি প্রথম আবিষ্কার করেন, তার কথা উল্লেখ করেই এ কথা বলেন জোনস।
জোনস বলেন, বজ্রপাত বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতেও কাঠ পুড়ে থাকতে পারে। ডেইলি মেইলের খবর অনুযায়ী, জোনস বিশ্বাস করেন, কাঠটি নুহের নৌকার। তার যুক্তি, নুহকে নৌকায় আলকাতরার প্রলেপ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ উপাদান নৌকাকে পানিরোধী করলেও দাহ্যও ছিল। ফলে কোনও একসময় নৌকায় আগুন ধরে যেতে পারে, যা পোড়া কাঠের ব্যাখ্যা দেয়।
দুরুপিনার গঠনে এটিই সর্বশেষ দাবিকৃত আবিষ্কার। সেপ্টেম্বরে দলটি শতভাগ নিশ্চিত করে, কাঠামোটি মানুষের তৈরি। সেপ্টেম্বরে গঠনটিতে ড্রিল করার পর দলটি পচে যাওয়া কাঠের প্রমাণ পায়। খননকাজে ব্যবহৃত একটি ড্রিল মেশিন ভেতরের গভীরে কিছুতে আঘাত করে ভেঙে যায় বলে জানা গেছে। দলটির ধারণা, সেটি পাথরে পরিণত কাঠ হতে পারে।
জোনস বলেন, তাদের পাওয়া তথ্য দেখাচ্ছে, দুরুপিনার প্রাকৃতিক শিলাগঠন নয়। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক রাডার তথ্যে একটি সরল, সমজাতীয় কঠিন শিলার বৈশিষ্ট্য দেখা যায়নি।
সূত্র: উইয়ন নিউজ