ইসরায়েলে এ সপ্তাহের পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হাতে কোনও পথ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তিনি এ কথা বলেন। এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শিবিরগুলো শাসক জোট গড়ার তৎপরতা জোরদার করেছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানায়, ভোট গণনা শেষ হয়েছে। ১২০ সদস্যের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩ আসন, বিরোধী চেঞ্জ জোট ৪৮ এবং আরব দলগুলো ১৯ আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনে দুই প্রধান জোটের কেউই পৌঁছাতে পারেনি। যাচাই প্রক্রিয়া শেষে ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ফল ঘোষণার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ নেতানিয়াহুর ৫৩ আসনের কথা উল্লেখ করে লাপিদ লেখেন, এটুকুই তার সম্বল। যা-ই করুন না কেন, সরকার গঠনের কোনও পথ তার নেই।তিনি উল্লেখ করেন, বিদায়ী নেসেটে প্রধানমন্ত্রীর জোটের আসন ছিল ৬৮টি। এ ফলকে তিনি বড় ধাক্কা বলে বর্ণনা করেন। লাপিদ আরও বলেন, ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। বিরোধীদের ফলকে তিনি নকআউট নয়, বরং পয়েন্টে জয় বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, এখন আসল কঠিন অংশ শুরু, সরকার গঠনের চেষ্টা। তার ভাষ্য, সরকার গঠন নির্বাচনি প্রচারণার ঠিক উল্টো। এটি হয় ছোট ছোট কক্ষে, ধীরে ধীরে, ক্যামেরার আড়ালে। নির্বাচনি প্রচার ও জোট আলোচনার পার্থক্য বোঝাতে তিনি এ কথা বলেন। লাপিদ বলেন, এটি কঠিন হবে। আমার কাছে কোনও নিশ্চয়তা নেই। সমর্থকদের তিনি ধৈর্য ধরতে আহ্বান জানান।
ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনথের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার চরম ডানপন্থি জিউইশ পাওয়ার পার্টির নেতা ইতামার বেন-গভির নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। ডানপন্থি সরকার টিকিয়ে রাখার উপায় নিয়ে তাদের আলোচনা হয়। জিউইশ পাওয়ার জানায়, আরব দলগুলোর সমর্থনপুষ্ট একটি বামপন্থি সরকার গঠন ঠেকানোর বিষয়ে দুজন দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।
অন্যদিকে ডেমোক্রেটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে চেঞ্জ জোটের নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিকল্প সরকার গঠন ত্বরান্বিত করার চেষ্টার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রাম) নেতা মানসুর আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেন গোলান। ভবিষ্যৎ জোটে রামকে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে তিনি আগেও অবস্থান নিয়েছেন। আর ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠনের বিরোধী।
চেঞ্জ জোট ও আরব দলগুলোর আসন মিলিয়ে হয় ৬৭টি, যা সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট। তবে আরব দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে চেঞ্জ জোটের অংশ নয়। তাদের সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে বিরোধী নেতাদের মতভেদ নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে সরকার গঠনের পথে এখনও বাধা হয়ে আছে।