সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চলছে, জানালো ইরান

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে কোনও শত্রুতা নেই উল্লেখ করে যৌথ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার তাগিদ দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মঙ্গলবার এক বার্তায় তিনি জানান, বিদেশি কোনও সামরিক উপস্থিতি ছাড়াই অঞ্চলের দেশগুলোর নেতৃত্বে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে তেহরান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ আরাঘচি লিখেছেন, গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আমাদের কোনও শত্রুতা নেই। আমরা কাতার ও ওমানের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করি এবং সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের সংলাপ অব্যাহত রেখেছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পৌঁছানো, যা যেকোনও বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত থাকবে।

দোহাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, তেহরান সফরে আসা সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এই আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ফের কোনও হামলা চালালে অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরান পাল্টা আঘাত হানবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

কাতারের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার একটি প্রস্তাব তুলে ধরে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের দাবিগুলো মানলে পরদিনই প্রণালিটি খুলে দেওয়া হবে। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইসলামাবাদ স্মারকের পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নৌ-অবরোধের অবসান, তেল রফতানির অনুমতি, আটকে থাকা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আগের স্তরে নামিয়ে আনা।

আরাঘচি স্পষ্ট করেন, হরমুজ প্রণালি খোলার আলোচনা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত চুক্তি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার জানান, ইরানের সংশোধিত সাত ধাপের কূটনৈতিক প্রস্তাবটি মাত্র দুই দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তবে তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের ইতিবাচক পদক্ষেপের ওপর।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি