জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, এটা জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রেমীদের জন্য এক বিরল সুযোগ কেননা গত ১১ বছরে পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহকে এত বড় আর এত উজ্জ্বল আর কখনও দেখা যায়নি। ৩০ মে মঙ্গল পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি চলে আসবে। এরপর আর এতো কাছাকাছি আসবে ২২৮৭ সালে। যা প্রায় ৩০০ বছর পর। এবার পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরত্ব হবে ৪ কোটি ৬৭ লাখ মাইল।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আরও জানান, রাতের আকাশে মঙ্গল গ্রহকে দেখার বিষয়টি নির্ভর করবে পৃথিবীতে আমরা কে কোথায় অবস্থান করছি, তার ওপর। তবে সাধারণভাবে, মধ্য রাতে অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে এই লাল গ্রহকে খালি চোখেই দেখা যাবে ৩০ মে থেকে।
সোসাইটি ফর পপুলার অ্যাস্ট্রোনমির ভাইস-প্রেসিডেন্ট রবি স্ক্যাগেল বলেন, ছোট ৫ ইঞ্চি টেলিস্কোপ দিয়ে আমি মঙ্গলগ্রহ পর্যবেক্ষণ করছি। মে মাসের শুরুতে আমি গ্রহটির অনেক বিস্তারিত দেখতে পাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আকাশে এখন মঙ্গল অনেক বড়। এটাকে অনেক বেশি লাল দেখাচ্ছে। কেউ যদি গ্রহটি আরও কাছ থেকে দেখতে চায় তাহলে প্রয়োজন পড়বে ৭৫-১০০ গুণ বড় করার ক্ষমতাসম্পন্ন টেলিস্কোপ। সবচেয়ে ভালো দেখার সময় রাত ১টা।
তিনি জানান, এই মুহূর্তে শনি গ্রহ মঙ্গলের খুব কাছাকাছি রয়েছে। এখন দুই গ্রহের পার্থক্য স্পষ্ট বুঝা যায়। শনিকে অনেক হলুদ মনে হয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যকে একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে আবর্তন করে মঙ্গল। সেই আবর্তনের সময় কখনও তা পৃথিবী থেকে চলে যায় অনেক দূরে আবার কখনও তা চলে আসে পৃথিবীর খুব কাছে। দূরে গেলে সেই অবস্থানটাকে বলা হয় এপি হেলিয়ন। আর কাছে এলে সেই অবস্থানটিকে বলা হয় পেরি হেলিয়ন। ৩০ মে থেকে মঙ্গল গ্রহটি যে অবস্থানে থাকবে তাকে বলা হয় পেরি হেলিয়ন অপজিশন। ওই দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ ধরে সূর্য, পৃথিবী আর মঙ্গল থাকবে একই সরলরেখার উপরে। ফলে সৃর্য ডুবলেই রাতের আকাশে উজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যাবে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে এসে পড়া লাল গ্রহটিকে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৩ সালের আগস্টে লাল গ্রহটি পৃথিবীর আরও কাছে এসেছিল। ওই সময় পৃথিবী থেকে মঙ্গলের দূরত্ব ছিল সাড়ে ৩ কোটি মাইল। সূত্র: স্কাই নিউজ, নাসা।
আরও পড়ুন:
- ২৫৬ বছর বেঁচে থাকা ব্যক্তির দীর্ঘ জীবনের রহস্য
- পাকিস্তানকে পাশ কাটাতে ইরানে বন্দর নির্মাণ করবে ভারত
- রাজা হয়েও কাটছেন পেঁয়াজ!
/এএ/