জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি বন্ধ না করলে নিজেদের ধ্বংস হতে হবে: জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি

জলবায়ু পরিবর্তনের মতোই বিপজ্জনক প্রকৃতির জন্য ‘নীরব ঘাতক’কে থামাতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশ্বের সামনে মাত্র দুই বছর সময় আছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্যবিষয়ক প্রধান ক্রিস্টিয়ানা পালমার।

2500

হুঁশিয়ারি জানিয়ে জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য প্রধান জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যেই প্রকৃতিকে রক্ষার জন্য বিশ্বকে পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে, তা না হলে মানবজাতি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনবে।

বাস্তুতন্ত্রের বিপর্যয় নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পূর্বে ক্রিস্টিয়ানা পালমার জানান, ২০২০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদন, বিশুদ্ধ পানি ও কার্বন ডাই অক্সাইডকে কমানো বা জমিয়ে রাখার প্রাকৃতিক উপায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কীট-পতঙ্গ, পাখি, উদ্ভিদ ও স্তন্যপায়ী প্রাণী রক্ষায় সরকারি পদক্ষেপ নিতে জনগণকে চাপ দিতে হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে ক্রিস্টিয়ানা পালমার বলেন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি একটি নীরব ঘাতক। এটা জলবায়ু পরিবর্তনের চেয়ে আলাদা। এর প্রভাব পড়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। জীববৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে কী ঘটেছে যা স্পষ্ট করে অনুধাবন করা কঠিন। কিন্তু যখন কী ঘটছে তা বুঝতে পারা যাবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যাবে।

জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সংস্থাটি মানবজাতির প্রাকৃতিক জীবন সহায়তা ব্যবস্থা সুরক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এই মাসে বিশ্বের বাস্তুতন্ত্র ও বণ্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন ফেমওয়ার্ক প্রণয়ণে মিসরে আলোচনা করবে সংস্থাটির ১৯৬টি সদস্য রাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে দুই বছরের আলোচনা শুরু হবে। ক্রিস্টিয়ানা আশাবাদী, ২০২০ সালে বেইজিংয়ে পরবর্তী সম্মেলনে নতুন বৈশ্বিক চুক্তি হতে পারে।

সংরক্ষণবাদীরা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মতোই জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য একটি চুক্তির পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিষয়টি এখনও খুব বেশি মনোযোগ পায়নি। যদিও অনেক বিজ্ঞানী বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতোই এই বিষয়টি মানবজাতির জন্য বড় হুমকি।

২০০২ ও ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত গুরুত্বপূর্ণ দুটি চুক্তি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।