দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বন্দরনগরী বুসানে একটি বিশাল ধূসর হাঙরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে একটি খালে আটকে থাকা হাঙরটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বুকাংগি’। ধীরে ধীরে খালের পানিতে ঘুরে বেড়ানো হাঙরটি এখন শহরটির অনানুষ্ঠানিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় সাড়ে ৩ মিটার দীর্ঘ হাঙরটি গত ১৮ সেপ্টেম্বর বুসানের নর্থ পোর্ট এলাকায় প্রথম দেখা যায়। এরপর এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হাঙরটিকে দেখতে হাজারো পর্যটক ভিড় করছেন।
মঙ্গলবার হাঙরটিকে সাগরের খোলা পানিতে ফেরাতে পাঁচটি নৌযান নিয়ে অভিযান চালায় কর্তৃপক্ষ। নৌযানগুলো থেকে পানির ধারা ছুড়ে হাঙরটিকে খালের বাহিরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। ঘটনাটি দেখতে ঘটনাস্থলে বিপুল মানুষ জড়ো হন এবং ইউটিউবেও সরাসরি সম্প্রচারও করা হয়।
তবে কয়েক ঘণ্টা পর অভিযান বন্ধ করে দিতে হয়। হাঙরটি বারবার নৌযানগুলোর পাশ দিয়ে চলে যায় অথবা পানিতে ডুব দিয়ে তাদের এড়িয়ে যায়। ফলে সেটি খালের মধ্যেই থেকে যায়।
বুসান সিটির কর্মকর্তা কিম ওয়ন-হো জানিয়েছেন, হাঙরটিকে উদ্ধারের জন্য শুক্রবারের মধ্যেই আবার চেষ্টা করা হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য হাঙরটিকে দ্রুত খোলা সাগরে ফিরিয়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফিশারিজ সায়েন্স হাঙরটি উদ্ধারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি জাল প্রস্তুত করছে। জালটি অন্তত ৫০ মিটার দীর্ঘ হবে। নৌযানের সাহায্যে খালের ওপর জালটি টানিয়ে হাঙরটিকে বের হওয়ার পথের দিকে পরিচালিত করা হবে। একই সময়ে আরেকটি নৌযান পেছন থেকে পানি ছিটিয়ে হাঙরটিকে নির্দিষ্ট দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। কিম ওয়ন-হো বলেন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি অনুযায়ী উদ্ধার পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
খালে আটকে থাকার কারণে হাঙরটির স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে এমন কোনও স্পষ্ট লক্ষণ এখনও পাওয়া যায়নি। তবে এটিকে খোলা সাগরে ফিরিয়ে দেওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
বুসান সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে হাঙরটিকে দেখতে নর্থ পোর্টে প্রায় ৬ লাখ মানুষ এসেছেন। এর মধ্যে গত সপ্তাহের ছুসক উৎসবের ছুটিতেই প্রায় ৫ লাখ মানুষ সেখানে ভিড় করেন। ছুসক দক্ষিণ কোরিয়ার থ্যাংকসগিভিং হিসেবে পরিচিত একটি বড় উৎসব।
বুসানের মেয়র চুন জে-সু এক বিবৃতিতে বলেন, শহরের মানুষের আগ্রহ ও ভালোবাসায় ‘বুকাংগি’ স্বাভাবিকভাবেই বুসানের গল্পের নতুন একটি অংশ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এবিসি নিউজ