যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জানান, কোনও নির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই ওবামা ও পুতিনের বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
জি২০ সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে ওবামা-পুতিন বৈঠক নিয়ে অনেকেই আশাবাদী ছিলেন। সিরিয়া ও ইউক্রেন দুই প্রেসিডেন্টের আলোচ্য সূচিতে থাকার কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
ওবামা-পুতিন বৈঠকে সিরিয়া বিষয়ে চুক্তির ব্যাপারটি সামনে আসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লেভরভের আলোচনার পর। জি২০ সম্মেলনের পূর্বে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক ও আলোচনায় সিরিয়া ইস্যুতে ঐক্যমতে পৌঁছার আভাস দেওয়া হয়েছিল। দুই মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, উভয় দেশই সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি বন্ধ হোক, এটাই চায়।
তবে সোমবার দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত না হওয়াতে আশঙ্কা করা হচ্ছে সিরিয়া নিয়ে রুশ-মার্কিন সমঝোতা ভেস্তে যাচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ‘অনেক বিষয় মীমাংসার বাকি আছে’। সিরিয়া নিয়ে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুরও কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
সিরিয়ায় ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীত ধর্মী। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য তারা আসাদ সরকারের বিদ্রোহ ঘোষণাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। তবে আসাদ সরকারের দাবি, আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করতে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে। আর রাশিয়া বাশার আল আসাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। আসাদ সরকারের সমর্থনে রাশিয়াও আইএস ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। সিরিয়া সংকটকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র প্রক্সি যুদ্ধে মেতে ওঠেছে বলে অনেকেই মনে করেন। সূত্র: সিএনএন।
/এএ/