টেক্সাস ম্যাটরেস নামের এক দোকান তাদের তোষক ও গদিজাতীয় পণ্যের জন্য টুইন টাওয়ার সেল নামের একটি বিজ্ঞাপন তৈরি করে। বিজ্ঞাপনের এক ক্লিপে বলা হচ্ছে যে, টুইন টাওয়ার হামলার দিনকে উপলক্ষ করে একটি পণ্যের দামে দুটি পণ্য পাওয়া যাবে। এ কথার পর ওই দোকানের দুই কর্মচারীকে দুইটি ম্যাট্রিক্স টাওয়ারের ওপর লাফ দিয়ে শুয়ে পড়তে দেখা যায়। সে সময় স্ক্রিনে ভেসে আসা শব্দগুলোতে বলা হয়, ‘আমরা কখনও ভুলব না’।
বস্তুত ম্যাটিক্স টাওয়ারে লাফিয়ে পড়ার মধ্য টুইন টাওয়ার ও ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের হামলার দিকটিই নির্দেশ করা হয়। ৯/১১-কে উপলক্ষ করেই বলা হয়, সেই ঘটনা আমরা কখনও ভুলব না। সবমিলে ৯/১১ এর ঘটনা নিয়ে বিদ্রুপ করা হয় ওই বিজ্ঞাপনে।
বিজ্ঞাপনটি প্রচারের পরই শুরু হয় এ নিয়ে বিতর্ক। পরে ৯/১১ এর ক্ষতিগ্রস্তরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।
বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ ঠিক হয়নি; এ কথা স্বীকার করে এটি প্রচার করা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন মিরাকল ম্যাটরেসের মালিক মাইক বোনানো। তিনি বলেন, বিজ্ঞাপনটি প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের দোকানও শুক্রবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই এ ধরণের বিজ্ঞাপন নির্মাণ করেছে সান আন্তোনিও নামের একটি বিজ্ঞাপন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। তিনি পুরো ঘটনার জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ ১৫ বছর আগের ঠিক এই দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এক যোগে চালানো হয়েছিল চার-চারটি আত্মঘাতী বিমান হামলা। হামলায় নিহত হন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। চারটি মার্কিন যাত্রিবাহী বিমান ছিনতাই করে নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় ৯টার দিকে চালানো হয় এই হামলা। দুটি বিমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর ও দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত হানে। নিমেষে ধসে পড়ে ভবন দুটি। আরেকটি বিমান নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে হামলা চালায় জঙ্গিরা। তবে চতুর্থ বিমানটি নিয়ে জঙ্গিরা পূর্ব নির্ধারিত স্থানে হামলা চালাতে চাইলেও যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পেনসিলভেনিয়ার আকাশে বিধ্বস্ত হয় সেই বিমান।
পরিকল্পিতভাবে চালানো নারকীয় এ ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞের জন্য ইসলামি জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদাকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগ। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-কায়েদার তখনকার নেতা ওসামা বিন লাদেনই ছিলেন হামলার রূপকার। ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে আত্মগোপন করে থাকা লাদেনকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ‘নেভি সিল'।
লাদেনের মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে একরম বিজয়ীই ঘোষণা করেছিলেন বারাক ওবামা। তবে পরে দেখা যায়, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জনই সৌদি নাগরিক। তবে সৌদি আরব প্রথম থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। মাস দুয়েক আগে কংগ্রেস এ সংক্রান্ত ২৮ পৃষ্ঠার গোপন নথি প্রকাশ করেছে যেখানে ৯/১১ হামলাকারী কয়েকজনের সঙ্গে সৌদি সরকারের কর্মকর্তাদের যোগাযোগ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেবল তাই নয়। এই হামলার পরিকল্পনাকারীদের একজন জাকারিয়া মুসাবি বর্তমানে মার্কিন কারাগারে রয়েছেন। গত বছর তিনি স্বীকার করেছেন একজন সৌদি প্রিন্স এ হামলায় অর্থায়ন করেছিলেন।
এই প্রেক্ষাপটে, হামলার ১৫তম বর্ষপূর্তির এক দিন আগে নাইন ইলেভেনের ঘটনায় সৌদি সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সুযোগ রেখে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ) একটি বিল পাস হলো। শুক্রবার বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সমর্থন লাভ সাপেক্ষে ৯/১১ এর ঘটনায় সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে বারাক ওবামা ওই আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন শুরু থেকেই। শুক্রবার প্রতিনিধি পরিষদে তা পাস হওয়ার পর ভেটোর হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
/এএ/বিএ/