ট্রাম্পকে আটকাতে কয়েক হাজার ‘ভোট বিনিময়’

ট্রাম্পকে আটকাতে ভোট বিনিময়সফি ওয়ার্নার গ্রিন পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জিল স্টেইনকে ভোট দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার ভয় ছিলো ওহাইওর মতো দোদুল্যমান রাজ্যে (সুইং স্টেট) তিনি যদি জিল স্টেইনকে ভোট দেন তাহলে তা রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে চলে যেতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে যেতে পারেন। যা তিনি চান না।

ট্রাম্প ট্রেডার্স নামক ওয়েসবাইটের মাধ্যমে ক্লিভল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটির ২০ বছরের এই শিক্ষার্থী খোঁজ পেয়ে যান ক্যালিফোর্নিয়ার মার্ক বালুডার। তিনি আবার রিপাবলিকান দলের সমর্থক কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পছন্দ করেন না। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিলারিকে ভোট দেওয়ার।

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরিচিত হয়ে এই অপরিচিত মানুষ একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হলেন। চুক্তি অনুসারে, ওহাইওতে শফি ওয়ার্নার ভোট দেবেন হিলারিকে। এখানে ট্রাম্পের সঙ্গে হিলারির জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আর ক্যালিফোর্নিয়ায় বালুডা ভোট দেবেন গ্রিন পার্টিকে। এখানে হিলারির জয় প্রায় নিশ্চিত।

শুধু সফি ওয়ার্নার নন, এভাবে মঙ্গলবার কয়েক হাজার মানুষ নিজেদের ভোট কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্বাচনে এ ধরনের ভোট বিনিময়কে বলা হচ্ছে ট্রেডিং ভোট। ভোট বিনিময় করা ভোটারদের বিরাট অংশই ট্রাম্পকে আটকানোর জন্য এটা করছেন। অবশ্য এটা নিশ্চিত হওয়ার কোনও উপায় নেই যে, যারা রাজি হয়েছেন তারা ঠিকমতো ভোট দিচ্ছেন। যদিও কয়েকটি রাজ্যে ব্যালট সেলফির অনুমতি থাকায় ভোটাররা তা তুলছেন।

এই ভোট বিনিময় এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নতুন সংযোজন। কারণ, সারাদেশে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না। চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হয় ইলেক্টোরাল ভোটে, যা আলাদা আলাদা রাজ্যে জয় পাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রার্থীরা অর্জন করেন। সবচেয়ে বেশি ইলেক্টোরাল ভোট পাওয়া প্রার্থীই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সাধারণ ভোটের সংখ্যা এক্ষেত্রে আর গোণায় ধরা হয় না।

ফলে ওহাইয়োর মতো দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বীতার মুখে পড়া প্রার্থীদের ভোটাররা রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটিক শিবিরে ঝুঁকতে পারেন। ফলে এখানে প্রতিটি ভোটই গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার ট্রাম্প ট্রেডার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ৪০ হাজার ভোটার নিজেদের ভোট বিনিময় করেছেন বলে জানিয়েছেন এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা জন স্টাবস। ভোটারদের এ সংখ্যা কম হলেও যেখানে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হতে পারে সেখানে কয়েকশ ভোটই ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে এই ভোট বিনিময় কিন্তু অবৈধ নয়। ২০০৭ সালে ইউ.এস. সার্কিট কোর্ট এক রুল জারি করে। তাতে ভোট বিনিময় মুক্ত মত প্রকাশের অধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য এই কৌশলের বিরোধিতাকারীদের সংখ্যাও কম নয়।

প্রথম ভোট বিনিময় শুরু হয় ২০০০ সালে। ওই সময় গ্রীন পার্টির অনেক ভোটারই রিপাবলিকান প্রার্থী জর্জ ডব্লিউ বুশকে আটকাতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল গোরকে ভোট দিয়েছিলেন।

অবশ্য ওই নির্বাচনে বুশ ফ্লোরিডায় মাত্র ৫৩৭ ভোটে জিতেছিলেন। নাদের ট্রেডার্স নামক ভোট বিনিময় সংস্থা ওই বার ৯৭ হাজার ভোট বিনিময় করা হয়েছিল বলে জানিয়েছিল। সূত্র: রয়টার্স।

/এএ/