চলতি বছরের সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার ওবামা দাবি করেন, পুতিন এই হ্যাকিং সম্পর্কে জানতেন। কারণ পুতিনের অগোচরে রাশিয়ায় তেমন কিছু ঘটে না। ওই সম্মেলনে পুতিনকে সতর্কও করেছিলেন ওবামা। জানিয়েছিলেন এর ফল ভালো হবে না।
পুতিনকে সতর্ক করার একমাস পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন প্রভাবিত করার অভিযোগ উত্থাপন করে।
ওবামা তার উত্তরসূরী রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নাম উল্লেখ করে সমালোচনা করেননি। তবে তিনি বলেছেন, কয়েকজন রিপাবলিকান মার্কিন নির্বাচনের রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
রাশিয়ার সাইবার হামলার উদ্দেশ্য জানতে দলীয় তদন্ত করতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন নির্বাচনে হ্যাকিংয়ের অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বারাক ওবামা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও (এনপিআর)-কে ওবামা বলেন, ‘আমদের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার আর তা আমরা নেব।’
এদিকে, নির্বাচনে পরাজিত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন প্রথমবারের মতো পরাজয়ের জন্য রাশিয়া ও পুতিনকে দায়ী করেছেন। পুতিনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ‘রেষারেষি’ এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ইঙ্গিত করেছেন তিনি। রাশিয়ার এই আক্রমণকে তিনি মার্কিন গণতন্ত্রের জন্যও হুমকিস্বরূপ বলে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি নির্বাচনের কয়েকদিন আগে এফবিআই প্রধানের একটি চিঠি প্রকাশকেও তার নির্বাচনি ফলাফলের পেছনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন হিলারি।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসকে উদ্বৃত করে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ম্যানহাটনে দাতাদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নির্বাচনে রাশিয়ান হ্যাকারদের জড়িত থাকার কথা বলেছেন হিলারি ক্লিনটন।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর এক মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় নিশ্চিত করার জন্য রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ইমেইল হ্যাক করেছিল রাশিয়া। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জড়িত যেসব ব্যক্তি উইকিলিকসের হাতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্যদের হাজার হাজার নথি তুলে দিয়েছিলেন, তাদেরও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা শনাক্ত করতে পেরেছে। ওই কর্মকর্তাদের দাবি, যেসব ব্যক্তি ওই কথিত হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত, তারা নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারির সমালোচনা সামনে এনে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের জয়ের পথ সুগম করার কাজ করছিলেন।
২০১১ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনের বিশুদ্ধতা নিয়ে সেসময়কার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি প্রকাশ্যে যে প্রশ্ন তুলেছেন তার জন্য কখনও তাকে নাকি ক্ষমা করতে পারেননি পুতিন। এ নিয়ে হিলারি বিক্ষোভকারীদের উসকানি দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করে আসছেন তিনি।
অবশ্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ট্রাম্প বরাবরই রাশিয়ার হ্যাকিং সম্পর্কিত অভিযোগ খারিজ করে আসছেন। এর আগে ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া কোনও ধরনের হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছে বলে তিনি মনে করেন না। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা এসব অভিযোগকে তিনি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের অক্টোবরে ওবামা প্রশাসন মার্কিন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে রাশিয়া সাইবার হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি ছিল, ডেমোক্র্যাটিক দলের ন্যাশনাল কমিটি, ডেমোক্রেটিক দলের কংগ্রেস প্রচারণা ও অপর রাজনৈতিক সংস্থায় সাইবার হামলা চালিয়েছে মস্কো নিয়ন্ত্রিত হ্যাকাররা। হ্যাক করা গোপন ও ব্যক্তিগত তথ্যগুলো উইকিলিকস ও অপর সন্দেহজনক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফাঁস করা হয়। হিলারির প্রচারণা টিমের প্রধান জন পডেস্টা ও বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ই-মেইল হ্যাক করারও অভিযোগ ওঠে।