হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার কথা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যৌথ এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান জন কেলি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ও অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস।
ট্রাম্পের জারি করা নতুন এ নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছে, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের যেসব নাগরিকদের বৈধ ভিসা নেই তারা আগামী ৯০দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এ নিষেধাজ্ঞাকে মুসলিম নিষেধাজ্ঞা বলা যাবে না। কারণ এ নিষেধাজ্ঞার ফলে অন্য দেশগুলোর মুসলিম নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে কোনও বাধার মুখে পড়তে হবে না।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই স্বাক্ষরের পর থেকেই কার্যকর হচ্ছে না। ১৬ মার্চ থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
ক্ষমতা গ্রহণের পরই ২৭ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশে সাত মুসলিম-প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র সফরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে সিয়াটলের একজন বিচারক ট্রাম্পের ওই নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের আদেশ দেন। ট্রাম্প প্রশাসন ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলেও সান-ফ্রান্সিসকোভিত্তিক তিন বিচারকের প্যানেল তা খারিজ করেন।
এর আগে শনিবার হোয়াইট হাউসের প্রধান নীতি-নির্ধারক স্টিভ ব্যানন বিচার বিভাগীয় একটি দলের সঙ্গে ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে বৈঠক করেছেন। তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও এ বিষয়ে বৈঠক করবেন।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প জানান, আগের নিষেধাজ্ঞা ‘খুব সামান্যই পরিবর্তিত হবে’। এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, নতুন করে জারি করতে যাওয়া নির্বাহী আদেশটিতে আগের নির্বাহী আদেশের ব্যাপারে আদালতের তোলা প্রশ্নগুলোর মীমাংসা করা হবে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা কয়েক সপ্তাহ ধরেই শোনা যাচ্ছিল। তবে কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণের পর ওই আলোচনায় কিছুটা ভাটা পড়ে। এরপর শনিবার সকাল থেকে ট্রাম্পের কয়েক দফা আক্রমণাত্মক টুইট বার্তার পর নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আবার সামনে আসে। ওই টুইট বার্তায় ট্রাম্প তার ফোনে আড়িপাতার জন্য ওবামাকে দোষারোপ করেন। সূত্র: বিবিসি, সিএনএন।
/এএ/