২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য একটি আইন পাস হলেও শিগগিরই মস্কোর বিরুদ্ধে কোনও ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন। তাদের দাবি, রুশ কোম্পানির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নৌরেথ এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই আইন ও তা বাস্তবায়নে রাশিয়ার অস্ত্রবিক্রিতে যে প্রভাব ফেলতে সে সম্পর্কে আজ (সোমবার) আমরা কংগ্রেসকে অবহিত করেছি। আমাদের হিসাব মতে, এই আইনটি পাস হওয়ার পর অনেক বিদেশি সরকারের রাশিয়ার কাছ থেকে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা স্থগিত বা বাতিল করেছে।
গত বছর মার্কিন কংগ্রেস সর্বসম্মতভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য এই আইন অনুমোদন করেছিল। কংগ্রেস চেয়েছিল এই আইনের ক্ষমতাবলে ট্রাম্প মস্কোর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করবেন। বিপরীতে ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক রক্ষা করতে চেয়েছেন এবং কংগ্রেসে পাস হওয়া আইনটি সমালোচনা করেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত আগস্ট মাসে, ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাস পর আইনটিতে স্বাক্ষর করেন তিনি।
এই আইন অনুসারে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির সর্বশেষ সময় ছিল সোমবার। রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা খাতে যারা বাণিজ্য বা সহযোগিতা করবে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। এই আইন পাস হওয়ার আগেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
বড় ধরনের অস্ত্রচুক্তির সময়সীমার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অপেক্ষা করাই ভালো।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধীদল ডেমোক্র্যাট নেতারা জানান, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সোমবারের সময়সীমা ছিল ট্রাম্পের জন্য একটি পরীক্ষা। ট্রাম্প সত্যিকার অর্থে রাশিয়ার বিরুদ্ধে জারি করেন কিনা এর মধ্য দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি না করায় সমালোচনা করছেন ট্রাম্প প্রশাসনের।
এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা এলিয়ট অ্যাঙ্গেল বলেন, আমাদের দেশ ও নির্বাচনের সুরক্ষার জন্য প্রশাসনের পদক্ষেপের অপেক্ষা করতে করতে হতাশ আমি। তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে রাশিয়া আরও আগ্রাসী আচরণ করবে। দুই বছর আগে যে হামলা হয়েছে তা কিভাবে দমন করবেন আপনারা? অথচ আরেকটি হামলা চলমান রয়েছে। এসবের কোনও অর্থ হয় না।
এদিকে, সোমবার মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার ১১৪ জন রাজনীতিক ও ৯৬জন ব্যবসায়ীর তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় থাকা ব্যক্তি শিগগিরই কোনও শাস্তি যেমন, সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা ভিসা বাতিলের মুখে পড়বেন না। তবে এটাকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের ঘনিষ্ট মানুষদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ভবিষ্যৎ তালিকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।