করোনা মহামারি: যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে প্রত্যাশিত গড় আয়ু

করোনাভাইরাস মহামারিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের প্রত্যাশিত গড় আয়ু এক বছর কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী সেখানকার মানুষের নতুন গড় আয়ু ৭৭.৮ বছর। ২০২০ সালের প্রথমার্ধের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এমন পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

করোনা মহামারির কারণে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এরইমধ্যে ৪ লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সিডিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাসে অনেক মানুষের মৃত্যু গোটা জনসংখ্যার প্রত্যাশিত গড় আয়ু কমিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

২০২০ সালের প্রথমার্ধে ইস্যুকৃত ডেথ সার্টিফিকেট বিবেচনায় নিয়ে নতুন পরিসংখ্যান হাজির করেছে সিডিসি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোটা জনসংখ্যার গড় আয়ু এক বছর কমে ৭৭.৮ বছরে দাঁড়ালেও আলাদা করে পুরুষদের গড় আয়ু ২০১৯ সালের তুলনায় ১.২ বছর কমেছে। আমেরিকান পুরুষদের নতুন গড় আয়ু ৭৫.১ বছর। আমেরিকান নারীদের গড় আয়ু প্রায় এক বছর কমে ৮০.৫ বছরে দাঁড়িয়েছে। করোনা মহামারির সবচেয়ে বেশি প্রভাব জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর ওপর। শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের করোনাজনিত মৃত্যুঝুঁকি তিন গুণ বেশি।

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কৃষ্ণাঙ্গদের গড় আয়ু তিন বছর কমেছে। আর ওই একই সময়ে হিস্পানিকদের গড় আয়ু কমেছে ২.৪ বছর।

সিডিসির মরটালিটি স্ট্যাটিসটিকস-এর প্রধান রবার্ট অ্যান্ডারসন বলেন, ‘গড় আয়ু কমে যাওয়ার এমন নজির দেখতে চাইলে আমাদেরকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তথা ১৯৪০ এর দশকে ফিরে যেতে হবে।’

অবশ্য, সিডিসি বলছে, ছয় মাসের সময়সীমাকে বিবেচনায় নিয়ে তারা তাদের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেছে। এটি কোভিড-১৯ এর পুরোপুরি প্রভাবকে প্রতিফলিত করে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শহরকে আক্রান্ত করেছে। ২০২০ সালের শুরুর মাসগুলোতে শহরাঞ্চল বেশি আক্রান্ত হয়েছে।