ইউক্রেনে রুশ শান্তিরক্ষী পাঠানোকে ‘বাজে কথা’ বললো যুক্তরাষ্ট্র

পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনকে বাজে কথা আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইউক্রেনের দুই অঞ্চলকে রাশিয়া স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়াকে যুদ্ধের অজুহাত বলে বর্ণনা করেছে ওয়াশিংটন। সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন দূত এসব কথা বলেন।

১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে মার্কিন দূত লিন্ডা থমাস গ্রিনফিল্ড বলেন, রুশ পদক্ষেপের পরিণতি ‘হবে ভয়াবহ-ইউক্রেন জুড়ে, ইউরোপ জুড়ে এবং দুনিয়া জুড়ে।’

সম্প্রতি ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া লাখো সেনা জড়ো করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমারা আশঙ্কা করে, রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করতে পারে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মস্কো। এনিয়ে মস্কো এবং পশ্চিমাদের মধ্যে গত কিছু দিন ধরেই তীব্র উত্তেজনা চলছে।

সোমবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেনের দুই অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেন। এগুলো হলো স্বঘোষিত ডোনেটকস্ক পিপলস রিপাবলিক এবং লুগানস্ক পিপলস রিপাবলিক। পশ্চিমারা সতর্ক করে বলেছে এই পদক্ষেপ বেআইনি এবং শান্তি আলোচনা ভঙ্গের কারণ হতে পারে।

মার্কিন দূত লিন্ডা থমাস গ্রিনফিল্ড বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন মিনস্ক চুক্তিকে টুকরো টুকরো করে ফেলেছেন। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, এটা এখানেই থামবে বলে আমরা বিশ্বাস করি না।’ উল্লেখ্য, পূর্ব ইউরোপে রুশপন্থী বিদ্রোহী এবং ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাত থামানোর উদ্দেশে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে মিনস্ক চুক্তি সই হয়।

সোমবার ইউক্রেনের দুই অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার পর ডনবাস অঞ্চলে ‘শান্তি বজায় রাখতে’ সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ দূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, ‘কূটনৈতিক সমাধানের জন্য আমরা কূটনীতির জন্য সম্মত রয়েছি, তারপরও ডনবাস এলাকায় নতুন রক্তপাত আমাদের উদ্দেশ্য নয়।’

চীনের জাতিসংঘ দূত ঝ্যাং জুন বলেন, ‘উদ্বিগ্ন সব পক্ষকে অবশ্যই ধৈর্য্যের চর্চা করতে হবে এবং উত্তেজনায় ঘি ঢালতে পারে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, কূটনৈতিক সমাধানের জন্য সব উদ্যোগকে বেইজিং স্বাগত জানাবে এবং উৎসাহ যোগাবে।

রাশিয়া দুই অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার পর ইউক্রেন নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহ্বান করে। কিয়েভের এই অনুরোধ সমর্থন করে কাউন্সিলের আট সদস্য। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সও ছিল।

সূত্র: রয়টার্স